চা শ্রমিক কিশোরীকে অপহরণ অত:পর…

113

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লোহাইউনি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি একই বাগানের চা শ্রমিক এক কিশোরীকে (১৬) অপহরণ করেছে। বিষয়টি চাউর হলে ক্ষোভের সঞ্চার হয় চা শ্রমিকদের মাঝে। অপহরণের ১০ দিন পর ২৩ জুলাই মঙ্গলবার রাতে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অজিত কৈরীসহ অপহৃত ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে কুলাউড়া থানা পুলিশ। এঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতে অজিত কৈরীকে প্রধান আসামী করে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা (নং ৩২) দায়ের করেছন। অপহরণকারী অজিত কৈরী (৪৫) উপজেলার ব্রাহ্মণবাজারের লোহাইউনি হলিছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় ওই কিশোরী লোহাইউনি হলিছড়া চা বাগানের শ্রমিক। দির্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীর মা বাবাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো একই বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও তিন সন্তানের জনক অজিত কৈরী। এতে ওই কিশোরী ও তার মা বাবাকে প্রভাব খাটিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও প্রদান করে। গত রোববার (১৪ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বোনের বাড়ি মৌলভীবাজারের বর্শিজুড়াতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিলো ওই চা শ্রমিক কিশোরী। মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কে বাগানের প্রধান ফটকের সম্মুখে বাসের অপেক্ষারত অবস্থায় জোরপূর্বক ওই কিশোরীকে একটি সিএনজি অটোরিক্সাতে তুলে নিয়ে যায় অজিতসহ আরও দুজন লোক। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে ওই কিশোরীর মা তাঁর বড় মেয়ের কাছে মোবাইলে জানতে পারেন সে (কিশোরী) এখনো যায়নি। অনেক খোঁজাখুজি করে তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে কিশোরীর মা-বাবা জানতে পারেন বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অজিত কৈরী দুইজন লোক নিয়ে ওই কিশোরীকে একটি সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে কুলাউড়া শহরের দিকে নিয়ে গেছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর কিশোরীর মা-বাবা গত ২২ জুলাই সোমবার বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন। কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী ও এসআই মাসুদুল আলম ভুইঞা দুইদিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করে ও অপহরণের মুলহোতা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অজিতকে আটক করেন। ওই কিশোরীর মা জানান অজিতের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে দ্বিত্বীয় বিয়ে করে এবং সে তিন সন্তানের বাবা। অনেক খোঁজাখুজি পর জানতে পারি অজিত আমার মেয়েকে অপহরণ করে উপজেলার জয়চÐী ইউনিয়নে ক্লিভডন চা বাগানে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়ি (শশুর বাড়ি) নিয়ে যায়। আমি ও আমার ভাই সেখানে গিয়ে আমার মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে অজিতের শশুর বাড়ির লোকজন বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে অজিতকে জিজ্ঞেস করলে সেও উল্টো আমাদের হুমকি দেয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা অভিযান চালিয়ে আমার মেয়েকে উদ্ধার করেন। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়ারদৌস হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান সোমবার অপহরণের খবর পেয়ে দুইদিন ধরে অভিযান চালিয়ে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এব্যাপারে কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে অজিতসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। অজিতকে মৌলভীবাজার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।