নৃবিজ্ঞানীকে আটকের ঘটনায় ইরানের সঙ্গে ফ্রান্সের উত্তেজনা

54
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

পরমাণু সমঝোতা নিয়ে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর নেয়া ‍উদ্যোগের মধ্যেই এক ফরাসি-ইরানি নৃবিজ্ঞানীকে আটক করেছে তেহরান। এ ঘটনায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

মঙ্গলবার ফারিবা আদেলখাহ নামক দ্বৈত ওই নাগরিককে গ্রেফতারের বিষয়টি তেহরানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।

প্যারিসের পক্ষ থেকে সোমবার ওই নৃবিজ্ঞানীর অবস্থান জানতে চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আটকের বিষয়টি স্বীকার করা হয়। তবে ফারিবা আদেলখাহকে কোন অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে এ বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেনি তেহরান।

গত রোববার ইরানের স্থানীয় একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, প্যারিসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ফারিবাকে গত জুনে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী আটক করে।

এরপর ফ্রান্স পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে ফারিবার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার দাবি জানালেও তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।

মঙ্গলবার ইরানের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েকদিন আগে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু এটা যে ধরনের মামলা তাতে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য দেয়ার সঠিক সময় এখনও আসেনি। মামলার অগ্রগতির পর আরও তথ্য দেয়া হবে।

অন্যদিকে সোমবার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো বলেছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে ইরান, রুশ ও মার্কিন সমকক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।

সার্বিয়া সফররত ম্যাঁক্রো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার আসন্ন সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা করছেন।

তাছাড়া গত সপ্তাহে পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা এমানুয়েল বন ইরান সফর করেছিলেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের এমন উদ্যোগের মধ্যে দ্বৈত ওই নাগরিককে গ্রেফতারের বিষয়টি চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

প্রসঙ্গত পরমাণু কর্মসূচি হ্রাস করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে- এই শর্তে ২০১৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ সদস্য ও জার্মানির সঙ্গে ইরান ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) নামের চুক্তিতে সই করে ইরান।

শুরু থেকেই চুক্তির প্রতিটি শর্তই মেনে আসছে তেহরান। এর পরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ এনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে ওই সমঝোতা থেকে বেআইনি ও একতরফাভাবে আমেরিকাকে বের করে নেন। সেই সঙ্গে ২০১৫ সালে তুলে নেয়া সব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণে ইরানও পরমাণু সমঝোতার কয়েকটি ধারা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সই করা পরমাণু সমঝাতা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা অতিক্রম করে ইরান। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির পরিমাণ ৩০০ কেজি ছাড়িয়েছে দেশটি

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More