পাইকগাছার চাঁদখালীতে একাধিক কারখানায় কাঠ পুড়িয়ে তৈরী করা হচ্ছে কয়লা; হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র

74
gb

মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা, খুলনা \

পাইকগাছার চাঁদখালীতে অবাধে গড়ে উঠেছে কাঁঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরীর কারখানা। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র। কারখানার কালো ধোয়ায় একদিকে বিঘিœত হচ্ছে সড়কে যাতায়াত, অপর দিকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ। এ ধরণের পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লা কারখানা বন্ধের দাবী জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী। প্রাপ্ত সূত্র মতে, উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের চাঁদখালী-কয়রা সড়কের চাঁদখালী বাজার থেকে কয়রা অভিমূখে সড়কের পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক কাঁঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরীর কারখানা। এক সময় অত্র এলাকায় অসংখ্য কারখানা গড়ে ওঠে এবং গড়ে ওঠা এ সব কারখানায় পোড়ানো হতো বেশিরভাগ সুন্দরবনের কাঠ। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কারখানা মালিকদের বিপুল পরিমাণ টাকা জরিমানা ও কারখানার চুলা ধ্বংস করে দিলে অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায় কয়লা তৈরীর কারখানাগুলো। দীর্ঘদিন প্রশাসনের তদারকি না থাকায় আবারও কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরীর কারখানা গুলো স্বচল করা হয়েছে। তবে এবার কারখানাগুলোতে বেশিরভাগ পোড়ানো হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির কাঠ। এক একটা কারখানায় পোড়ানো হচ্ছে শত শত মন জ্বালানি কাঠ। ফলে একদিকে এলাকার গাছ-পালা উজাড় হয়ে যাচ্ছে, যার কারণে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে এলাকার গাছ- পালা উজাড় হতে বেশি দিন লাগবে না বলে এলাকাবাসী ধারণা করছে। অপরদিকে প্রধান সড়কের পাশ দিয়েই কারখানাগুলো গড়ে ওঠায় কারখানার কালো ধোয়ায় সড়ক দিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। ধোয়ার কারণে এলাকাবাসী আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। উল্লেখ্য, কাট পুড়িয়ে তৈরী করা এসব কয়লা দেশের ঢাকা চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সচেতন এলাকাবাসীর দাবী পরিবেশ বিপর্যয় থেকে এলাকাকে রক্ষা করার জন্য অবিলম্বে কয়লা কারখানাগুলো বন্ধ করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানান, এ ধরণের কারখানা এলাকায় রয়েছে এটা আমার জানা নাই। যদি কোন কারখানা গড়ে উঠে থাকে সে সব কারখানার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More