সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন

111

মহিনুল ইসলাম সুজন,ক্রাইম রিপোর্টার নীলফামারী\

নীলফামারীতে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, বাড়িতে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। রবিবার (৭জুলাই) বিকেলের দিকে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এলাকাবাসীর ব্যানারে ঘন্টাব্যাপাী ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সংগলশী ইউনিয়নের সভাপতি তরণী কান্ত রায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান শাহ বুলাল, সাবেক ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন রায়, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা, ক্রীড়া সম্পাদক বিদ্যুৎ রায়, স্থানীয় মন্দিরের পুরোহিত ধীমান সাধু প্রমুখ। বক্তারা জানান, জমির বিরোধের জেরে গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে সদরের সংগলশী ইউনিয়নের বড় এলোকমারী গ্রামে নিপেন্দ্র নাথ রায়ের (৫০) বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ করে পার্শ্ববর্তী চড়াইখোলা ইউনিয়নের দালালের বাজার গ্রামের মজিবর রহমান ও তার লোকজন। এসময় নিপেন্দ্রর স্ত্রী রঞ্জনা রাণী রায় (৪৫) অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া মেয়ে নীপা রাণী রায়কে বিদ্যুতের খুটিরসাথে বেধে নির্যাতন করা হয়। তারা বলেন,‘আমরা ওই অমানবিক হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি।’ মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নবম শ্রেণীর ছাত্র নিপেন্দ্র নাথের ছেলে উত্তম কুমার রায় বলেন,‘ওই ঘটনার আগে তারা কৌশলে মামলা দিয়ে আমার বাবাকে হাজতে ঢুকায়। এর তিনদিন পর বাবার অনুপস্থিতিতে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাদের হামলায় আহত হয়ে আমার মা এবং বোন(দিদি) হাসপাতালে রয়েছেন। এখন তাদের হুমকীতে আমিও বাড়ি ছাড়া হয়েছি।’ পরে আসামীদের গ্রেফতার দাবিতে জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন মানববন্ধনে অংশ গ্রহনকারীরা। স্থানীয়রা জানায়, ৩০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে নিপেন্দ্র নাথ রায় ও মজিবর রহমানের মধ্যে। গত শুক্রবার (৫ জুলাই) মজিবর রহমান জমি দখল নিতে এলে ওই হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতের (নিপেন) বড়ভাই সুনীল রায় (৫৪) বাদি হয়ে নামীয় নয় জন এবং অজ্ঞাতনামা ১২ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। নীলফামারী সদর থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন,‘ওই মামলায় আনোয়ার হোসেন ও মো. শরীফ নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন,‘অন্য আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।’