গাইবান্ধায় তালের আঁটি বিক্রি শাহীনুর আর ডিপটির চলে জীবন জীবিকা

77
gb

গাইবান্ধা  প্রতিনিধি ||
রসালো পাকা তালের পিঠা খাওয়ার সেদিন এখন হারিয়ে যাচ্ছে। কেননা সা¤প্রতিক সময়ে মানুষের কাছে কচি তালের সু-স্বাদু নরম আটির স্বাদ অপেক্ষাকৃত এখন অনেক বেশী। ফলে প্রচুর চাহিদার কারণে গাছে তাল ধরার সাথে সাথেই কচি অবস্থাতেই ব্যবসায়িরা বাজারজাত করে থাকে। কেননা এতে লাভও বেশী। ফলে তাল গাছগুলো তাল শূন্য হয়ে পড়ে বলেই এখন পাকা তাল বাজারে আগের অনেকটাই কম পাওয়া যায়।
প্রচুর চাহিদা থাকার কারণেই এই তালের আটি বিক্রি করেই এখন জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের আনালেড়তাড়ি গ্রামের দরিদ্র গৃহবধু শাহীনুর বেগম ও তার স্বামী ডিপটি মিয়া। গাইবান্ধা জেলা শহরের শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এলাকার পিকে বিশ্বাস রোডের পাশে প্রতিদিন শাহীনুর বেগম বিক্রি করে এই তালের আটি। শাহীনুর বেগম জানালেন, একটি তালে একটি থেকে চারটি আটি থাকে। আবার কোন কোন তালে একটি বা দুটি আটিও থাকে। প্রতিটি আটি ৫টা মূল্যে বিক্রি করা হয়। দা দিয়ে কেটে কেটে তাল থেকে আটি বের করে পলিথিনে ভরে গ্রাহককে দেয়া হয়।
উলে­খ্য, তালের আটির চাহিদা এতটাই বেশী নারী-পুরুষ গ্রাহকরা রাস্তায় দাড়িয়ে যখন একসাথে তাদের চাহিদা মোতাবেক তালের আটির জন্য দাড়িয়ে ভীড় করে। তখন এই শাহীনুর বেগম ও তার স্বামী ডিপটি মিয়া দু’জন একসাথে বসে দা দিয়ে তাল কেটে আটি বের গ্রাহক চাহিদা পূরণ করতে দিশেহারা হয়ে পড়ে। শাহীনুর বেগমের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার স্বামী ডিপটি মিয়া মূলতঃ জেলার বাইরে থেকে তাল সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। কেননা গাইবান্ধা জেলায় তাল গাছের সংখ্যা খুব কম থাকায় জেলা থেকে চাহিদা মোতাবেক তাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। সেজন্য তাকে যেতে হয় নওগা জেলার সান্তাহার, নওগা, পতœীতলা, বগুড়া জেলার সোনাতলাসহ বিভিন্ন জায়গায়। এই সমস্ত এলাকায় গিয়ে ডিপটি মিয়া ও তার সঙ্গের লোকজন ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা দরে একটি গাছ চুক্তি নেয়। পরে নিজেরাই গাছ থেকে তাল পেড়ে নিয়ে আসে। প্রতিটি গাছ থেকে তাল পাওয়া যায় প্রায় ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। ছোট ছোট ট্রাকে করে সংগৃত তাল নিয়ে এসে তারা গাইবান্ধায় বেচাকেনা করে।
এই পরিবারটি তালের আটির ব্যবসার সাথে ৮ থেকে ১০ বছর যাবত। তালের মৌসুম শেষ হলে অন্য সময় তারা পেয়ারা, বড়াইসহ অন্যান্য ফল-মুল বিক্রি করে। এছাড়া পাশেই ছোট একটি চায়ের দোকান দিয়ে চা বিক্রি করে সংসার চালায়। তারা জানালো, অন্যান্য ব্যবসার চাইতে তালের আঁটি বিক্রির ব্যবসাটাই লাভজনক।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More