চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ৩ দিনের জেলা এস্তেমা

43

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের মার্কাজ মসজিদ এলাকার আমবাগানে বৃহষ্পতিবার(১৩’জুন) থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপি (১৩’জুন-১৫’জুন) জেলা এস্তেমা। এ উপলক্ষ্যে শেষ মুহুতের প্রস্তুতি চলছে। প্যান্ডেল তৈরীসহ মুসুল্লিদের সুবিধার্থে নির্মান করা হচ্ছে অস্থায়ী টয়লেট,ওজুখানা। থাকা খাওয়াসহ,পানি সরবরাহ লাইনের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। এদিকে এবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জেও তাবলীগের বিবাদমান দুটি গ্রুপ সক্রিয় থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে সজাগ।
আয়োজকরা জানান, জেলার সদর ,শিবগঞ্জ,নাচোল ,গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা,পার্শ্ববর্তী জেলা, ঢাকাসহ দূরের জেলা এবং বিভিন্ন দেশে থেকেও লক্ষাধিক মুসুল্লির সমাগমের লক্ষ্যে এস্তেমার প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এর মধ্যেই ভারত,পাকিস্তান,ইন্দোনেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ ও দেশের ১৫ টি তাবলীগের জামাত দল এস্তেমা ময়দানে এস্তেমা সফল করতে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বৃহষ্পতিবারের মধ্যে জেলার সব উপজেলা থেকে আসা কর্মরত ৫০টি জামাত এস্তেমা সফল করতে মাঠে যোগ দেবেন। এছাড়া রাজশাহী,চাঁপাইনবাবগঞ্জের তাবলীগ কর্মিরা বৃহষ্পতিবার এস্তেমায় যোগ দেবেন।
কর্মরত তাবলীগ কমীরা জানান, একমাত্র মহান আল্লাহকে খুশি রাখতে ও দ্বীন প্রচারের জন্যই তারা স্বেচ্ছাশ্রমে এস্তেমা সফল করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা তাবলীগ জামাতর নেতা মো. ইব্রাহিম হোসেন জানান, দ্বীনের স্বার্থে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এস্তেমা সফল করতে বিভিন্ন দেশ থেকে তাবলীগ জামাতের সাথীরা এসেছেন । ইন্দোনেশিয়া থেকে তার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দল দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
জেলায় তাবলীগ জামাতের অন্যতম মুরুব্বী আকবর আলী ও আকবর হোসেন জানান, পূর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরে হলেও শিবগঞ্জে এ বছরই প্রথমবার জেলা এস্তেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এস্তেমা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বৃহষ্পতিবার ফজর নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ৩ দিন ব্যাপি এস্তেমার কার্যক্রম শুরু হবে। শনিবার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, বুধবারের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এস্তেমার মূল কাজ আরম্ভ হবে। এজন্য গঠন করা হয়েছে ১৫ টি সাব কমিটি। কমিটিগুলো টয়লেট ব্যবস্থা,ওজুখানা,প্যান্ডেল নির্মান, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন দিক দেখাশোনা করছে।
অতিরিক্ত পুলিম সুপার মাহবুবুল আলম জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দ্বিধাবিভক্ত তাবলীগের কোন গ্রুপ যেন কোন অঘটন না ঘটাতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এস্তেমা উপলক্ষে পোষাকধারী ও পোষাকবিহীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে বৃহস্পতিবার থেকে কাজ শুরু করবে পুলিশ কন্ট্রোল রুম।

মন্তব্য
Loading...