অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ সমাজের দর্পন আইনজীবী সিরাজুল হক

194
gb

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পুরাতন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আছেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রাণ, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী সিরাজুল হক।

আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগের সভাপতি, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের রাজপথের এই সৈনিক ছিলেন বাংলাদেশের ঢাকা জর্জ কোর্টের একজন আইনজীবী।

অস্ট্রেলিয়া এসে তাসমানিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে শুরু করেন কমিউনিটি ওয়ার্ক। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাইগ্রেশন (অভিবাসন) আইনজীবী হিসেবে তিনি ছিলেন সবার আস্থার জায়গা।

দলমত নির্বিশেষে তিনি সাহায্য করেছেন সবাইকে। বাদ যায়নি ভিনদেশি কমিউনিটি। ১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে প্রথম বাংলাদেশি কোন রাজনীতি দলের প্রথম সভা ও কার্যক্রম শুরু করেন। অস্ট্রেলিয়া ল ফার্ম প্যারিস পেশেন্সের পরিচালক অভিবাসন আইনজীবী প্রয়াত ডেভিড বিটেল সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশ থেকে ২০০০ সালের অলিম্পিকের পরে কয়েকশো দক্ষ বাংলাদেশিকে অস্ট্রেলিয়া আনার পিছনে কাজ করেছেন এই সাদা মনের মানুষ।

তিনি অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। ব্যক্তি জীবনে সিরাজুল হক দুই সন্তানের পিতা, বড় ছেলে ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি ফাইনাল ইয়ার স্টুডেন্ট এবং মেয়ে ইয়ার ১২ শেষ করেছে।

১/১১ বাংলাদেশের জরুরি অবস্থায় এই সিরাজুল হকের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া পার্লামেন্ট বাংলাদেশ মানবাধিকার নিয়ে বিল উত্থাপন করেন। সেই সময় ঐ বিল উত্থাপন করেন রবার্ট মার্কলেন এমপি এবং শ্যাডো এটর্নি জেনারেল।

সিরাজুল হকের সবচেয়ে বড় অবদান হলো অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির পারমেটটা ক্যাম্পাসে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। কিছুটা পিছনে থেকে বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছেন এই গুণী মানুষ। কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই এই ত্যাগী নেতার। যদিও এই প্রতিবেদক প্রশ্ন করেছেন বর্তমান অস্ট্রেলিয়ার আওয়ামী লীগের বর্তমান ভাগাভাগি নিয়ে।

তিনি সহজেই উত্তর দিলেন আসলেই অস্ট্রেলিয়ায় আওয়ামী লীগ একটাই। আর সেই দলের সভাপতি আমি নিজেই, তবে অনেকেই দীর্ঘদিন দল ক্ষমতা থাকার ফলে কিছু সুবিধা নিতে নতুন সাইনবোর্ড নিয়ে দল শুরু করেছেন।

আসলেই তারা কোনো কাজই করেনা, কিছু ফটোসেশন ছাড়া আর কিছু নেই। আশ্চর্য হওয়ার বিষয় হলো যারা এ কাজগুলো করেন তারা কখনোই আমাকে বলেন নাই দলে আসবে, এমনকি একটা মেম্বারশিপ অ্যাপ্লিকেশনও নেননি। আপনি বলেন আমার কি করা ? তবে আমার কোনো রাগ – অভিমান নেই। | আমি চাই কমিউনিটি ভালো থাকুক।

সিরাজ স্মরণ করেন প্রায় ২০ বছর আগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অস্ট্রেলিয়ার ওয়েন্টেরওয়ার্থ হোটেলের নাগরিক সংবর্ধনার পরিচালনার কথা।

তিনি বলেন সবসময় নেত্রীকে বলি প্রবাসীদের যেন একটু দেখে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এমনকি দেশের অর্থনীতিতে এই প্রবাসীরা কাজ করে যাচ্ছেন বিনা স্বার্থে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবদার প্রবাসীদেরকে কাছে রাখুন। এসময় সিরাজুল হকের চোখে ছিল জল আর মুখে তৃপ্তির হাসি। কারণ তিনিই ছিলেন এবং আছেন দলমত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন