সাজিদ জাভিদের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী হলে শিক্ষার্থীদের ভিসা সহজ করা হবে

95
gb

জিবি নিউজ ডেস্ক।।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো থেকে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সহজ করার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজ করতে বাধা দেওয়ার কোনও মানেই নেই।

শুক্রবার (৭ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন থেরেসা। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকলেও ব্রেক্সিট প্রশ্নে তার কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। থেরেসার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে ১১ জন কনজারভেটিভ এমপির মধ্যে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাজিদ জাভিদও।

ফিন্যানসিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক কলামে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যতম মেধাবী ও সম্ভাবনাময় মানুষগুলোকে পড়াশোনার পর দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কোনও মানেই নেই। এছাড়া গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ফিউচারের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানেও তিনি প্রায় একই কথা বলেন। আর্ন্তজাতিক শিক্ষার্থীদের তিনি যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা ও কাজ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।

সাজিদ জাভিদ বলেন, আমি চাই আমাদের দেশের আরও বিদেশি শিক্ষার্থী আসুক। তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করুক এবং এরপর কাজ করুক। আমাদের তাদের থাকা ও কাজের পরিবেশ সহজ করা উচিত।

তার এই বক্তব্যকে সাবেক মন্ত্রী জো জনসন স্বাগত জানান। তিনি ও গত এপ্রিলে এমন আইন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে কাজ করতে পারে। পড়াশোনার পর শিক্ষার্থীদের বাড়তি ২ বছর সময় দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, অভিবাসন বিল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে নমনীয় হলেই প্রকৃত জয় আসবে।

নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীরা ২ বছর বেশি থাকার সুযোগ থাকবে। এতে করে শিক্ষার্থীদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে না। জো জনসনের ভাই বরিস জনসনও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন।

তবে তারা এই সংশোধনী প্রস্তাবে ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের কথা নির্দিষ্ট করে বলা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই সুবিধা সব শিক্ষার্থীরাই পাবে।

ইউনিভার্সিটিস ইউকে ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ভিভিয়েন স্টার্ন বলেন, এই বিল অনুযায়ী শুধু ইউরোপের শিক্ষার্থদের কথা বলা হলেও ব্রেক্সিটের পরে এর সুবিধা পাবে সব দেশের শিক্ষার্থীরাই। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য সবসময়ই শিক্ষার্থীদের তাদের পড়াশোনার বিষয় অনুযায়ী তালিকা করে। তাদের থাকার সুবিধা বাড়ানো হলে নিশ্চিতভাবেই এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

২০১২ সালে থেরেসা মে যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন তখন পড়াশোরনার পর দুই বছরে বাড়তি থাকার এই সুবিধা বাতিল করা হয়। তখন থেকেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক কমে যায়। জাভিদের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে কনজারভেটিভ নেতার মতো করে তিনি ভাবতে চান না। এবং থেরেসা মে ভিসার ওপর কড়াকড়ি করার নীতি অবলম্বন করলেও তিনি একমত নন। তিনি আশা করেন ভিসা সহজ করলে আবারও দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More