কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রম সাড়ে ৫ বছরেও চালু হয়নি

170
gb

বিশেষ প্রতিনিধি।।জিবি নিউজ।।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সিলেট আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়টি কোনো প্রকার কার্যক্রম ছাড়া ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর থেকে ন্যূনতম সুবিধা পাচ্ছে না এ অঞ্চলের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা। অথচ আধুনিক ভবনসহ সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েই কার্যালয়টির উদ্বোধন হয় সাড়ে পাঁচ বছর আগে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সিলেট আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়টি উদ্বোধন হলেও জনবল সংকটের কারণে এর কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। আর এ কারণে কার্যালয়টিতে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তরাও আসেন না। এমনকি নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহকারীরাও কার্যালয়টি নিয়মিত বসেন না। ফলে এ ভবনটিতে অনেকটা ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে।

জানাযায়,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের সাড়ে ৫ বছরেও সিলেটে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রম চালু হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্থায়ী লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি পড়ে আছে অভিভাবকহীন অবস্থায়। এ কারণে সিলেট বিভাগের কারিগরি শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের ঢাকায় গিয়ে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম সারতে হচ্ছে। ফলে তাদেরকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ-ভোগান্তি।

সরেজমিনে দক্ষিণ সুরমার টেকনিক্যাল রোডস্থ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি খোলা থাকলেও ভেতরে নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। একটি কক্ষে অপেক্ষমাণ তিনজন ছাত্রী। জানালো, তারা সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ক্লাসের জন্য বসে আছে। ম্যাডাম তাদের ক্লাস নেন। অফিসে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তারা জানায়, তারা পলিটেকনিকের প্রশাসনিক ভবনে বসেন।
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। প্রধান ফটকের পাশের প্রবেশপথ দিয়ে শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করে। ভবনের নিচ তলার কয়েকটি রুম খোলা থাকলেও চেয়ার-টেবিল পড়ে আছে কক্ষগুলোর যত্র-তত্র। যেন প্রতিষ্ঠানটির কোনো অভিভাবক নেই।

সরেজমিনে আরো দেখা যায়, ভবনটির সম্মুখে রয়েছে একটি নামফলক। এটি ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। কার্যালয়টি উদ্বোধনের পর থেকে সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষকে উপ-পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর একই কলেজের পাওয়ার ডিপার্টমেন্টের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী মো. ইকবাল চৌধুরীকে বর্তমানে কার্যালয়টির পরিদর্শকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া অফিস সহকারী হিসেবে ওই প্রতিষ্ঠানের আরো একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ভবন সংলগ্ন সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের চত্বরে এ প্রতিবেদকের আলাপ হয় সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের বর্তমান অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. প্রকৌশলী মো: আব্দুল্লাহর সাথে। জানালেন, স্থায়ী লোকবল না হওয়ায় তিনি প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত। প্রতিষ্ঠানটিতে স্থায়ী লোকবল নিয়োগের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। লোকবল নিয়োগ হলেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালু হবে পুর্ণোদ্যমে। তিনি আরো জানান, সারাদেশে আরো কয়েকটি কারিগরি শিক্ষাবোর্ড স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। আগামীতে এটা সিলেট কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে দেশে কেবল বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড বিদ্যমান রয়েছে। এটি ঢাকায় অবস্থিত। ভবনটি কবে উদ্বোধন হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নামাঙ্কিত একটি ফলকও লাগানো রয়েছে-এ বিষয়ে অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি অন্য একজন শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল হাকিম জানান, স্কিলড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় তৎকালীন সময়ে তিন তলা বিশিষ্ট এ ভবন নির্মিত হয়। এতে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় হয়। নির্মাণ কাজ শেষে ভবনটি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময়ও সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক আব্দুল কুদ্দুস এ প্রতিবেদককে জানান, এ প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন।
জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ জানান, সিলেটে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যালয় পুরোদমে চালু না হওয়ায় তাদেরকে রাজধানী ঢাকায় গিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাতে হয়। এ কারণে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, বর্তমান সময়ে সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর সবচাইতে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরপরও সিলেটে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু না হওয়ার বিষয়টি দু:খজনক।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ওয়েব সাইটের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৫০টি সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে তিনটি সরকারি পলিকেটকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। এছাড়া, বিভাগের চার জেলায় আরো ৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ রয়েছে। এর বাইরে এ বিভাগে আরো কয়েকটি বেসরকারি পলিটেকনিক এবং টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ রয়েছে। সিলেট অঞ্চলের এসব প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজ ঢাকায় গিয়েই সারতে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More