না ফেরার দেশে চলে গেলেন জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আবুল হাশেম সমাদ্দার

92
gb

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

না ফেরার দেশে চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর এ্যাডভোকেট আবুল হাশেম সমাদ্দার (৯৬)। শুক্রবার সকাল ৭ টার দিকে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে ….. রাজেউন)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৫ মেয়ে, ৩ ছেলে ও স্বজনসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধু’র হাত ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন এবং ৬ দফা অন্দোলনসহ ৬৮, ৬৯ ও ৭০’এর গণ-আন্দোলনে তাঁর বিশাল ভ‚মিকার জন্য তিনি গোপালগঞ্জে খুব জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠেন। এজন্য পাকিস্তানী সামরিক-জান্তার হাতে তাকে একাধিকবার গ্রেফতার হতে হয়। সে সময় তিনি গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি কোলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘জয় বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং জাতীয় চার নেতার সঙ্গে একই শিবিরে ছিলেন। ১৯৭২ সালে পৌরসভা গঠনের পর তিনিই গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রথম মনোনীত চেয়ারম্যান হন এবং গোপালগঞ্জ মহকুমা রিলিফ কমিটির সভাপতি হন। ’৭৫ এর আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর পেয়ে শোক সইতে না পেরে তিনি ক্ষাণিকটা মানসিক ভারসাম্য হারান। শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে মরদেহ আনা হয় গোপালগঞ্জ শহরের পাওয়ার হাউজ রোডস্থ তার নিজবাড়িতে। খবর পেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসে ভীড় করে তাকে শেষবারের মতো দেখতে। তাঁর মৃত্যুতে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়েছে। গভীর শোক প্রকাশ করে শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ-সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। জুম্মাবাদ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গোপালগঞ্জ পৌর-কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। আগামী সোমবার বাদ আসর শহরের পাওয়ার হাউজ মসজিদে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More