৯শ’ শয্যার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাললোকবল নেই ৫শ’ শয্যারও

48

বিশেষ প্রতিনিধিঃজিবি নিউজ।।

সিলেট বিভাগের মানুষের উন্নত চিকিৎসার ভরসাস্থল এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। শুধু নিুবিত্ত বা মধ্যবিত্ত নয়, উচ্চবিত্তরাও সেবা নিতে ছুটে যান সরকারি এই হাসপাতালটিতে।

১৯৯৮ সালে হাসপাতালটিকে ৫শ’ থেকে ৯শ’ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু কাগজে-কলমে ৯শ’ শয্যার হলেও জনবল, অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি নেই ৫শ’ শয্যারও।

হাসপাতালটির এমআইআই ও সিটিস্ক্যান মেশিন অকেজো তিন বছর ধরে। ল্যাব টেকনিশিয়ান আর অপারেটরের অভাবে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যেতে হয় বাইরে। প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। যদিও শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুছ রহমান।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫শ’ শয্যার সুযোগ-সুবিধা সম্পূর্ণরূপে না থাকলেও প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারেরও বেশি রোগীকে আবাসিক চিকিৎসা দেয়া হয়। বহির্বিভাগে দৈনিক সেবা নেন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার রোগী। ৫শ’ শয্যা হিসেবে অনুমোদিত ২৮৮ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৮৯টি পদ শূন্য। নার্স, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মিলে ১ হাজার ২৮০টি পদের মধ্যে ২৭৫টি পদই শূন্য। নেই আইসিইউ সুবিধাযুক্ত আধুনিক কোনো অ্যাম্বুলেন্স। এমনকি গত দশ বছরে হাসপাতালে যুক্ত হয়নি নতুন কোনো অ্যাম্বুলেন্স। পুরনো ৭টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে চালু আছে চারটি। রয়েছে চালক সংকটও।

এতসব সংকটের মধ্যেও ২০১৬ সালে ছোট-বড় ৪০ হাজার ১৩০টি অস্ত্রোপচার করা হয় এ হাসপাতালে। ২০১৭ সালে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৩১০টি। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৬৯৯টি।

হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও রোগীর সংখ্যার তুলনায় তা খুবই কম। ল্যাব টেকনিশিয়ান আর অপারেটরের অভাবে বেশির ভাগ সময়ই রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যেতে হয় বাইরে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পেতেও হয় বিলম্ব। ফলে ঝামেলা এড়াতে অনেকে রোগী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঝুঁকছেন প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর দিকে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবুল কালাম আজাদ প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫শ’ শয্যা অনুপাতে হলেও লোকবল বৃদ্ধি করতে হবে বলে জানান। তিনি বলেন, সীমিত ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগেই সেবার মান ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে। কখনও সেবিকা ও ওয়ার্ডবয়দের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করাতে হচ্ছে, আবার দৈনিক হাজিরা চুক্তিতে লোক দিয়ে হলেও সেবা কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদেরও নিতে হচ্ছে অতিরিক্ত দায়িত্ব।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুছ রহমান বলেন, লোকবল সংকটই একমাত্র কারণ। তবে ইতিমধ্যে সিটিস্ক্যান মেশিন বসানো হয়েছে, খুব শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে। নতুন এমআরআই মেশিনের জন্য চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। আশা করি অল্পদিনের মধ্যে পেয়ে যাব। তিনটি এক্সরে মেশিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একনাগাড়ে কাজ করেও কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না অপারেটরের অভাবে। লোকবল বাড়লে এই সমস্যা থাকত না। লোকবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবনটি অচিরেই চারতলা থেকে দশতলা হবে। নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া জাইকার অর্থায়নে একটি পনেরো তলা ভবন নির্মাণ করা হবে।

মন্তব্য
Loading...