ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে মোংলা বন্দরে দেশি-বিদেশি জাহাজে পণ্য ওঠানামা বন্ধ

209
gb

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির.সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ||

ঘূর্ণিঝড় ফণি’র প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর বন্দরে অবস্থানরত সকল প্রকার দেশি-বিদেশি বানিজ্যিক জাহাজে পণ্য ওঠা নামার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ মে) সকালে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ করে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সাথে বন্দরের নিজস্ব এলার্ট-থ্রি জারি করা হয়ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার দুরুল হুদা জানান, আবহাওয়া অফিস থেকে মোংলা বন্দরে চার থেকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর জরুরী বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বন্দরে অবস্থানরত ক্লিংকার, মেশিনারী, গ্যাস এবং স্লাগসহ ১৮ টি বানিজ্যক জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। একই সাথে বন্দরের নিজস্ব এলার্ট -থ্রি জারির পর বন্দরের অভ্যন্তরীন নৌ রুটে সকল প্রকার নৌ যান চলাচলও বন্ধ করা হয়। বিদেশি বানিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য বোঝাই করতে লাইটারেজকেও নিরপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণি’র আঘাত হানার আশংকা ও পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার বিকেলে মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জরুরী প্রস্তুতি সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার সরকারী কর্মকর্তাদেরকে সতর্কাবস্থায় থেকে শতভাগ প্রস্তুতি গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের নিদের্শনা দেন।

সকল আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সেগুলোর চাবি দায়িত্বশীল লোকদের কাছে রাখতে এবং দূর্গতরা সঠিকভাবে সেখানে উঠতে পারে, এজন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া প্রত্যেক মসজিদের মাইকে সতর্কতা বার্তা প্রচারের জন্য ইমাম ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জীবিতেষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে গঠিত একটি মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা কন্ট্রোল রুমের সার্বক্ষনিক দায়িত্বে থাকছেন উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: নাহিদুজ্জামান। জরুরী এ সভায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি ও সিপিপিসহ বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, বনপ্রহীদের ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি নিয়ে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে এবং যে সকল দর্শনার্থী এখনও বিভিন্ন নৌযানে করে বনের ভিতরে অবস্থান করছে তাদেরকেও নিরাপদে সরিয়ে দিতে বনপ্রহরীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন