ড্রিম কাম ট্রু, কিপ অন ড্রিমিং

31
gb

আমার এক লেখার শিরোনাম ছিল ‘জানতে হলে পড়তে হবে’। সেখানে একটি কমেন্ট চোখে পড়ে ‘জানার শেষ নাই, তাই পড়ে লাভ নাই’। পড়ে মনে হলো যে লিখেছে সে নিজেও জানেনা কি লিখেছে।

কারণ যে ফুল কখনও ফোটেনি, যে ফুল কখনও ফল দিতে পারেনি, সে ফল নতুন জীবন দেয়ার সুযোগও পায়নি। ফুল ফুটতে বা ফুল থেকে ফল এবং নতুনত্বের আবির্ভাব ঘটাতে দরকার অনেক কিছু।

পারিপার্শ্বিকতা, আত্মবিশ্বাস, ইচ্ছা, সাহস, স্বপ্ন এর মধ্যে অন্যতম। তারই যখন অভাব তখন উত্তর এমনটিই আশাব্যঞ্জক। আমি আমার দৈনন্দিন জীবনে যা দেখছি, শুনছি তা শুধু মনের আনন্দে উপভোগ করছি। প্রত্যেকটি মানুষ ব্যক্তি হিসেবে যেমন সুন্দর তেমন চমৎকার; অথচ অনেকে তাও জানেনা। কারণ তাদের ধারণা জানার শেষ নেই তাই জেনে কি লাভ। বিশ্বভান্ডারে শুধু গন্ডারও যদি থাকে তবে তার থেকেও শিক্ষনীয় রয়েছে।
যেমন গন্ডারের চামড়া মোটা তাই তারা সহজে আঘাত পায়না। আমরা অর্থে দরিদ্র হতে পারি কারণ আমাদের ধনসম্পদ, অন্ন, বস্ত্রের অভাব, বুঝলাম। কিন্তু মনের মধ্যে দারিদ্রতা নিয়ে ঘুরে বেড়াবার কোন কারণ থাকতে পারে বলে আমি মনে করিনা।

আমি স্বপ্ন দেখি প্রতিক্ষণ এবং সারাক্ষণ একটি সুন্দর জীবনের জন্য। আমার মনের মাঝে স্বপ্ন যখন আমাকে তাড়া করে তখন তার তাড়নায় আমি বাধ্য হই একটু একটু করে তাকে বাস্তবে রূপ দিতে।

স্বপ্ন যখন বাস্তবে পরিণত হয় তখন মনের মধ্যে সাহস বাড়তে থাকে। আর সেই সাহস সাহায্য করে নতুন স্বপ্ন দেখতে। যার কারনে আমি মনেপ্রাণে সব সময় অনুভব করি আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনী। এ প্রসেসের মধ্যে যারা ঢুকেছে তারা জীবন খুঁজে পেয়েছে। তাই তারা জানে সাঁতার কেটে আটলান্টিক সাগর পাড়ি দেয়া সম্ভব নয়। তার জন্য দরকার বোটের। তবে সাঁতার কেটে নদী পার হওয়া সম্ভব, তাই শুরুটা নদী দিয়ে করা ভালো সাগর পাড়ি দেয়ার আগে। কারণ নদী পার হতে না শিখে সাগর পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন দেখা রাতে ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখার মত এক অলৌকিক কল্পনা।

আমার পরিচিত দুই বন্ধুর জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা এবং স্মৃতির পাতা থেকে কিছু কথা দিয়ে আজকের লেখা শেষ করব। দুই বন্ধু নাম কালে এবং পেলে। কালে প্রতিদিন ঘুমের ঘোরে বড় ধরনের স্বপ্ন দেখতো। একদিন সে ঘুম থেকে উঠে বললো বন্ধু পেলেকে ‘আজ ল্যাপল্যান্ডের যে অংশ ফিনল্যান্ডের মধ্যে আছে তা দখল করে পুরোটাই সুইডেনের ল্যাপল্যান্ড করে ফেলেছি’।

পেলেও রাতে স্বপ্ন দেখে তবে প্রেমের স্বপ্ন, তার বান্ধবীকে নিয়ে। দিনের বেলায় সে চিন্তা করে কিভাবে ল্যাপল্যান্ডকে সুন্দর করে গড়ে তোলা যায়। ল্যাপল্যান্ড বনজ এবং খনিজ সম্পদের জন্য বিখ্যাত। তা কিভাবে কাজে লাগানো সম্ভব! ল্যাপল্যান্ড সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের নর্থে অবস্থিত। এই ল্যান্ডস্কেপে রয়েছে প্রচুর বনজ এবং খনিজ সম্পদ যা সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের ন্যাচারাল এক্সেস। কালে এবং পেলে ল্যাপল্যান্ডের বাসিন্দা। লাপল্যান্ডে যেহেতু ফিনিস এবং সুইডিশদের বসবাস, স্বাভাবিক ভাবেই দুই ভাষা এবং কালচারের সমন্বয়ে তারা গড়ে উঠেছে এবং সয়মের (Samer) নামে এরা পরিচিত।
এখানে সোনার খনি রয়েছে, রয়েছে প্রচুর হরিণ এবং ভেড়া। এখানের পশুর চামড়া এবং মাংস, এ ছাড়া জঙ্গলের কাঠ যা সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে।

পেলে স্বপ্ন দেখে দিনে দুপুরে তার ভালবাসার সঙ্গী আনাকে নিয়ে, যেখানে সুখের সংসারে গড়ে উঠবে তাদের ভবিষ্যত সন্তানেরা। পেলে তার মনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেছে।

সে তার ভালোবাসার আনাকে বিয়ে করেছে। সে বনজ এবং খনিজ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে ল্যাপল্যান্ডকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শহর বানাতে শুরু করেছে। পেলের স্থানীয় উদ্বেগ ল্যাপল্যান্ডের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে।

তার চিন্তাধারা সমাধান দিতে চলছে দিনের পর দিন হাজারও সমস্যার। যার কারনে পেলের পারিপার্শ্বিকতা, ইচ্ছা, সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্ন সত্যি হয়েছে তার জীবনে। অন্যদিকে কালে দিনে শুধু কমপ্লেইন আর রাতে স্বপ্ন দেখে।

সারাক্ষণ শুধু কমপ্লেইন আর কমপ্লেইন ছাড়া সে তেমন কিছুই করতে পারেনি। পরে হতাশায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। বলতে গেলে সমাজের জন্য বোঝা হতেই তার জন্ম হয়েছিল।

কালের উদ্বেগ (Concern) হতাশা ছাড়া আর কিছুই তাকে এবং সমাজেকে দিতে পারেনি। আমাদের জীবনের অনেক সময় আমরাও কালের মতো কমপ্লেন এবং হতাশায় ব্যয় করি।

খুব অল্প সময় আমরা ব্যয় করি যে বিষয়টির ওপর তা হলো আত্মবিশ্বাস (self confidence)।

আমরা কি তাহলে পরাধীন থাকার কারনে আত্মবিশ্বাস হারিয়েছি? কিভাবে ফিরে পেতে পারি তা আমাদের জীবনে? আমি মনে করি আমরা যেন সূর্যের উঠন্ত বেলায় জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি এবং দিনের পড়ন্ত বেলা যত কঠিনই যাক না কেনো আমাদের সময়, আত্মবিশ্বাস যেন না হারাই। কারণ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে দরকার আত্মবিশ্বাস।

আত্মবিশ্বাসে মিলায় সাহস স্বপ্নে বহুদূর। ছোটবেলায় আমি সেই নহাটা গ্রাম থেকে দিনে দুপুরে এবং রাত জেগে স্বপ্নে দেখেছি। অনেক কথা ভেবেছি এবং গুরুজনদের কথা শুনেছি। আমার জীবনে যে গুরুজনের কথা আমি মনে প্রাণে ভক্তি এবং বিশ্বাস করেছি তিনি ছিলেন আমার হাইস্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক।

এলাকাতে তিনি হুজুর এবং পীরসাহেব বলেই পরিচিত ছিলেন। মাগুরা জেলা, মোহাম্মদপুর উপজেলা, নহাটা ইউনিয়ন, পানিঘাটা গ্রামের সেই মহান শিক্ষক যাঁর নাম মওলানা মহিউদ্দিন সাহেব।

যিনি গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছিলেন আমার গুরুজন। তিনি অনেক বছর আগে মারা গেছেন তবে তাঁর মহানুভবতার কথা মনে পড়ে আজও।

অপূর্ব চরিত্রের ভালোমানুষ এবং সুশিক্ষক ছিলেন তিনি। তিনি আমাকে একদিন বলেছিলেন ‘বাতাসের সাহায্যে যেমন বাংলার রমণীরা ধান থেকে চিটাকে দূর করে, ঠিক তেমনি সুশিক্ষা আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং দূর করে মনের অন্ধকারকে’।

আমি অনেক কিছু নিজে জানতে চেষ্টা করছি যা আমার আত্মবিশ্বাসকে মজবুত করছে এবং সে সঙ্গে দূর করছে মনের অন্ধকারকে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More