সন্দেহভাজন হামলাকারীর বর্ণনা দিলেন অল্পের জন্য বেঁচে ফেরা এক ব্যক্তি

125
gb

শোকে কাতর শ্রীলংকা। শোকের ছায়া নেমেছে সারবিশ্বে। গতমাসে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার শোক ভুলতে না ভুলতেই শ্রীলংকায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটল।

এখন পর্যন্ত আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমে পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী এ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত পাঁচশতাধিক।

এ হামলায় নিহত হতে পারতেন স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ ফার্নান্দো ও তার পরিবার। সপরিবারে অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন। গির্জায় যেতে একটু দেরি হওয়ার কারণেই তিনি ও তার পরিবার বেঁচে গেছেন বলে জানান দিলীপ ।

স্থানীয় গণমাধ্যমসহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে এমনটাই জানালেন তিনি। হামলাকারীকে তার দু্ই নাতনি দেখেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

গতকাল নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্টিয়ানস গির্জায় চলছিল ইস্টার সানডের বিশেষ উৎসব। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দিলীপ ফার্নান্দো পরিবার নিয়ে ওই গির্জায় যান । একটু দেরিই হয়ে যায় তাদের। পৌঁছে দেখেন গির্জায় আগেভাগেই এসে প্রার্থনায় মগ্ন ধর্মপ্রাণরা। ভিড় বিষয়টা পছন্দ করেন না দীলিপ। এত মানুষ দেখে স্ত্রীকে নিয়ে অন্য গির্জায় চলে যান দিলীপ। সেখান থেকে চলে যাওয়ার অল্প সময় পরেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আজ সোমবার সকালে রক্তাক্ত গির্জা দেখতে এসেছেন দিলীপ। সেখানেই গতকালের ঘটনায় তার বেঁচে যাওয়ার বিষয়টি বর্ণনা দিলেন।

দিলীপ জানান, ভিড় দেখে স্ত্রীসহ আমি চলে এলেও আমার দুই নাতনি থেকে যায় সেন্ট সেবাস্টিয়ানে।কিন্তু তারা ভেতরে না ঢুকতে পেরে গির্জার বাইরে বসে অপেক্ষা করে।

কিছুটা আহত হলেও তারা সবাই বেঁচে আছেন জানিয়ে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দিলীপ।

এ সময় দিলীপ দাবি করেন, বোমা বহনকারীকে দেখেছে তার ওই দুই নাতনি। এমনকী সেই তরুণ তাদের একজনের মাথায় হাতও রেখেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা চলে আসার একটু পর কাঁধে খুব ভারী একটা ব্যাগসহ প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক তরুণকে দেখতে পায় আমার নাতনিরা।

ব্যাগসহ ভিড় ঠেলে গির্জার ভেতরে প্রবেশ করেন ওই তরুণ। তরুণ ভেতরে প্রবেশের পরই বিস্ফোরণ ঘটে।

নাতনিদের বর্ণনায় ওই তরুণের চেহারা ছিল সাদাসিদে। খুব শান্ত প্রকৃতির।তার মধ্যে কোনো উত্তেজনা ও ভয় ছিল না। সেই তরুণই আত্মঘাতী বলে ধারণা তাদের।

এমন বর্বর হামলায় শ্রীলংকার খ্রিষ্ট সম্প্রদায় ব্যথিত হলে ভীত নয় মন্তব্য করে দিলীপ বলেন, ‘ গির্জা আজ সকালে খুললে আজকেই আমরা ভেতরে ঢুকব। প্রার্থনা করব। আমরা ভয় পাই না। আমরা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য পূরণ হতে দিবনা। কোনোভাবেই না।’

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More