সিঙ্গাপুরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় বর্ষবরণ

31

সিঙ্গাপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রবিবার সিঙ্গাপুরের মার্সেলিং পার্কে বেঙ্গলী কমিউনিটিতে নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করে।

পুরাতন বছরের জরা, ক্লান্তি, গ্লানিকে পেছনে ফেলে চির নতুনের ডাক দিয়ে এলো পহেলা বৈশাখ। তাই নিজের দেশ, মাতৃভূমি থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করেও বিদেশের মাটিতে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য বৈশাখ উদযাপন করা হয়।

সকাল সাড়ে দশটায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।এরপর খেলাধুলা, বাঙালি খাবার পান্তা ইলিশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলা নতুন বছর ১৪২৬ সালকে বরণ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

দিনব্যাপী চলা এ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয় স্বদেশী খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে। বিদেশের মাটিতে নানা আয়োজনের উপস্থিত সবাইকে আনন্দিত করে তোলে। যেন প্রবাসের মাটিতে এক টুকরো বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে আসা এক দর্শকের কাছে জানতে চাওয়া হয় বৈশাখ উদযাপনের ইতিহাস জানেন কিনা? তিনি হাসিমুখে বলেন, রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য মোগল সম্রাট আকবরের আমলে বৈশাখ থেকে প্রবর্তন হয়েছিল বাংলা সালের।

বর্ষ শুরুর সেই দিনটিই এখন বাংলাদেশিদের প্রাণের উৎসব। বাদশাহি খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য ফসলি সালের শুরু করেছিলেন হিজরি চান্দ্রবর্ষকে বাংলা সালের সঙ্গে সমন্বয় করে। তিনি পহেলা বৈশাখ থেকে বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেছিলেন। আর বৈশাখ নামটি নেয়া হয়েছিল নক্ষত্র ‘বিশাখা’র নাম থেকে।

তিনি আরো বলেন, পহেলা বৈশাখ কোন বিজাতীয় সংস্কৃতি নয় এটা আমাদের বাঙালির সার্বজনীন উৎসব। এটা কোন ধর্মীয় উৎসব নয় তাই সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষ পহেলা বৈশাখ ব্যাপক উদ্দীপনার মাধ্যমে উদযাপন করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রবাসী বাঙালি পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অভিবাসী কর্মীদের সঙ্গীত দল ফ্রিডম ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশন করেন এবং সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত শিশু কিশোররা নৃত্য পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে বেঙ্গলী কমিউনিটি সিঙ্গাপুর (বিসিএস)এর প্রেসিডেন্ট উত্তম কুমার নাগ, সেক্রেটারি হরি দাস বসাক ও জহরলাল সুত্রধর ও অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর প্রবাসী, শিশু-কিশোর-বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

প্রবাসে এধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ সম্পাদক পংকজ কানতি বিশ্বাস বলেন, শুধু এবছরই না আমরা প্রতিবছরই ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করে থাকি। এধরণের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা প্রবাসেও আমাদের সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চাই।আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে প্রবাসে অবস্থান করে আমাদের সংস্কৃতি ভুলে না যায়।

বেঙ্গলী কমিউনিটি সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট উত্তম কুমার নাগ বলেন, আগামী দিনে স্বদেশি সংস্কৃতি বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।আশাকরি বিদেশের মাটিতেও আমাদের সন্তানরা তাদের বুকে লালন করে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

মন্তব্য
Loading...