ভুবন ভুলানো সিলেট

মোঃ সাইফুল্লাহ রাব্বী:: রূপকথার কোন রাজ্য নয়;স্বপ্নের চেয়েও স্বপ্নীল,স্বর্গের থেকেও স্বর্গীয়,শিল্পীর আপন হাতে আঁকা ছবির থেকেও বেশি সুন্দর,পাহাড়,নদী,খাল,ঝরণা,চা-বাগান ও জঙ্গলে ঘেরা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল।এছাড়া ৩৬০ আউলিয়ার দেশ নামে খ্যাত এই সিলেট অঞ্চল।সবকিছু মিলিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সিলেট হয়ে উঠেছে পর্যটনের রূপকথার কোন এক কল্পনার নগরীতে।

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রভূমি এই অঞ্চল।প্রাকৃতিক বৈচিত্রতার সাথে জাতি,ধর্ম নিবিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সুষম অবস্থান সিলেটকে করেছে আরো বেশি বৈচিত্রময় এবং প্রাণবন্ত।সুরমা নদী সিলেটকে দিয়েছে শতভাগ সৌন্দর্যের পূর্ণতা। প্রাকৃতিক সম্পদের কোন কমতি এই সবুজ ভুমিতে;প্রাকৃতিক গ্যাস,পাথর,বালি,খাল-বিল,হাওর-বাওর,পাহাড়,বন-জঙ্গল,মৎস্য সম্পদ ও বিভিন্ন রকমের পশু-পাখি।

বর্ষায় বৃষ্টির ছোঁয়াতে সিলেট ফিরে পায় তার চিরসবুজ -সবুজে ঘেরা এক নতুন রূপ। খাল-বিল,হাওর-বাওর,নদীগুলো ফিরে পায় প্রাণ,সারি সারি নৌকা এক প্রান্ত থেকে আরাক প্রান্তে অবিরাম ছুটে চলা,পাথুরের নৌকায় পাথর উঠানো,প্রিয়াইন নদী দিয়ে নৌকায় সেই পাথরগুলো সিলেটের বিভিন্ন এলাকাতে নিয়ে যাওয়ার মনোরম দৃশ্য সত্যিই ভোলার মত নয়।শীতকালে অতিথি পাখির কলরবে মুখরিত থাকে সিলেটের খাল-বিল,হাওর-বাওরগুলো; মনে হয় এই খাল-বিল,হাওর-বাওরগুলোর সৃষ্টি হয়েছে অতিথি পাখিদের স্বাগত জানানোর জন্য।যারা পাখি দেখতে ভালোবাসেন তাদের অবশ্যই আকর্ষণ করবে এখানে পাখি দেখতে আসার জন্য।শীতকালে এই স্থানগুলো হয় অতিথি পাখিদের অভয়ারণ্য।

সিলেটের প্রত্যকটি পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মত আবেদন ও সৌন্দর্য।এজন্য অনেকেই্ সিলেটকে আখ্যায়িত করেছেন,’পৃথিবীতে স্বর্গের একখানি অংশ’।যে জায়গাগুলো পর্যটকদের সিলেট ভ্রমণে অনুভূতি জাগায়;সিলেটের মাজার,কীন ব্রীজ,সিলেট শহর,টিলাগড় ইকো পার্ক,বিছানাকান্দি,রাতারগুল জলাভূমি,সংগ্রামপুঞ্জিমায়াবী ঝর্ণা,পাংথুমাই গ্রাম, জাফলং এর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য,,জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তূপ ,লালাখাল,শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান,লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক ,মাধবপুর লেক,হামহাম জলপ্রপাত,হাকালুকি হাওর(বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাওর), বাইকা বিল, খাসিয়া পল্লী,মনিপুরী পাড়া এসবই পর্যটকদের সিলেট ভ্রমণের খোড়াক যোগায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বিছানাকান্দির অপরূপ সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসু মানুষদের মনে এক অন্য রকম মায়ার জায়গা করে নিয়েছে,আপনি সিলেটে ঘুরতে যাবেন আর বিছানাকান্দির মায়ার বিছানাতে পদধূলি না দিয়ে ফেরত আসবেন সেটা আপনার মন সায় দিবে না।গোয়াইনঘাট থেকে সাজোয়া নৌকায় চড়ে প্রিয়াইন নদীর বুক চিড়ে বিছানাকান্দিতে যাওয়ার পথে ভারতীয় পাহাড়্গুলো,নৌকায় করে পাথর নিয়ে আসা ও সারি সারি গ্রাম পর্যটকদের চোখ জুড়িয়ে দেয়।ভাসমান রেস্তোরাঁয় সুস্বাদু খাবার আর পাথরে বসে শীতল পানিতে পা ভেজানো সবটুকু ক্লান্তিকে ম্লান করে দেবে।

জাফলংকে পাথরের রাজধানী বললেও ভুল হবে না কারণ এখানকার প্রত্যেকটা স্থানে দেখা যাবে বড় বড় পাথরের স্তুপ। জাফলং থেকে নৌকা বা পায়ে হেটে জিরো পয়েন্টে গেলে মেঘালয় পাহাড় পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে।খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের কিছু অংশ আপনার চোখের সামনে ভাসবে আর সেই সাথে নিজেকে ভিজিয়ে নিন ডাওকি নদীর হিম-শীতল জলে।সিলেটের অপরূপ সৌন্দর্য বলে বুঝাবার মত ব্যাপার না,এখানে গিয়ে সবকিছু অবলোকন করে অনুভব কবার ব্যাপার।সিলেট ভ্রমণের অভিঞ্জতা পর্যটকদের সেখানে বার বার ভ্রমণে উদবুদ্ধ করবে।

মোঃ সাইফুল্লাহ রাব্বী, ফাউন্ডার -ট্রাভেল মেমোরিয়া

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন