আশুলিয়ায় তুরাগ নদী তীরের ইট ভাটাগুলোর কী হবে?

34

নদীর তীরবর্তী এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটের ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও সাভার উপজেলায় তুরাগ নদী তীরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইটের ভাটা। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে আশুলিয়া এলাকার ঢাকা ব্রিকস, রাজু ব্রিকস, আশরাফ ব্রিকস, মেঘনা ব্রিকস, মডার্ন ব্রিকস, ষ্টাইল ব্রিকস, সুরমা ব্রিকস ও এসএস ব্রিকসসহ ১২টি ইটভাটাকে ৯৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমদ অভিযান পরিচালনা করেন। ইট ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, ইট ভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ায় সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা সবসময় ধোঁয়াচ্ছন্ন থাকে। ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও আইনকে তোয়াক্কা না করে ইট ভাটার মালিকরা কাঠ পোড়ায়। পাশাপাশি গাড়ির টায়ার, পোড়া মবিল, পলিথিন ও রাবার জাতীয় দ্রব্যাদি পোড়ানোর কারণে চারপাশের পরিবেশ একেবারে দূষিত হয়ে পড়ছে। আবাসিক এলাকায় ইট ভাটা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও সাভার- আশুলিয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহু ইট ভাটা গড়ে উঠেছে। ইট ভাটার পাশেই রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, পোশাক কারখানা, হাট- বাজার, বাস ষ্ট্যান্ড। ফলে ইট ভাটার ধোঁয়ায় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। ক্রমাগত ইট ভাটার ধোঁয়া জনবহুল এলাকায় নির্গমনের ফলে এলাকাবাসী শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগ- ব্যাধিতে ভুগছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সাভার উপজেলায় ইটভাটা রয়েছে ১৮৩টি। এর মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে মাত্র সাতটির। তবে অসমর্থিত সূত্রের মতে সাভারে ইট ভাটার সংখ্যা দুই শতাধিক। ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ভাটার অনুমোদন নিষিদ্ধ করা হয়। আবাসিক এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ইটের ভাটা পরিচালনার ফলে শুধু জনস্বস্থ্যেরই ক্ষতি হচ্ছেনা। ভারি যানবাহনে ইটের ভাটার মালামাল পরিবহনের কারনে সড়কগুলো টেকসই হচ্ছেনা। গেন্ডা- সাদাপুর সড়কটি ইটের ট্রাকের কারণে পায়ে হেঁটে চলাচলেরও অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে সড়কটি মেরামত করা না হলে পথচারিদের দূর্ভোগের সীমা থাকবেনা। এদিকে বাইপাইল-আশুলিয়া-আবদুল্লাপুর সড়কে ইটের ট্রাকের কারণে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে। এইসব ট্রাকের বেশিরভাগেরই ফিটনেস নেই। ইটের ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে মারাত্মক সড়ক দূর্ঘটনা। রোববার সকালে আমিনবাজার এলাকায় ইটের ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের মটরসাইকেল চালক আবদুল ওয়ালিদ চৌধুরী। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোহাম্মদ রফিক বলেন, যানবাহন থেকে শুরু করে ইট ভাটার কালো ধোঁয়া শিশুদের মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য অবশ্যই দূষণমুক্ত পরিবেশ আবশ্যক।

মন্তব্য
Loading...