ভারত থেকে ফিরলেন ৯১ বাংলাদেশি জেলে চারটি মাছ ধরার ট্রলারসহ মোংলায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ নৌপথ এবং বাংলাদেশ-ভারত সামুদ্রিক সীমান্তে দুই দেশের কোস্ট গার্ডের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভারতে আটক থাকা ৯১ জন বাংলাদেশি জেলে এবং তাদের চারটি মাছ ধরার ট্রলার দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ কয়েক মাসের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে স্বজনদের কাছে ফিরে আসায় জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগে গত ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং ২০ জানুয়ারি ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতীয় কোস্ট গার্ড পৃথক অভিযানে চারটি বাংলাদেশি মাছ ধরার ট্রলারসহ ৯১ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে। এরপর থেকে তারা ভারতে আটক অবস্থায় ছিলেন।

আটক জেলেদের মুক্তি ও দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং ভারতীয় কোস্ট গার্ডের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলে ও ট্রলারগুলো প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় গত রবিবার বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমারেখা বা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম বাউন্ডারি লাইন (আইএমবিএল)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে ৯১ জন বাংলাদেশি জেলে এবং চারটি মাছ ধরার ট্রলার গ্রহণ করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

পরবর্তীতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে জেলেদের তাদের নিজ নিজ ট্রলারসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। অনেকেই আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে। এই সহযোগিতার ফলেই আটক জেলে ও মাছ ধরার ট্রলারগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয় ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরার সময় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমারেখা সম্পর্কে জেলেদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তারা।

উল্লেখ্য, সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অনেক সময় বৈরী আবহাওয়া, নৌ-যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা কিংবা অজ্ঞতাবশত আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ফেলেন জেলেরা। ফলে তারা প্রতিবেশী দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। এ কারণে জেলেদের মধ্যে সমুদ্রসীমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক নেভিগেশন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন