আশ্বাসে এক মাসের জন্য স্থগিত বেনাপোল বন্দরের কর্মবিরতি, স্বস্তি ফিরেছে আমদানি-রপ্তানিতে

ইয়ানূর রহমান : অধিকাল (ওভারটাইম) ভাতা পুনর্বহালের দাবিতে টানা আন্দোলনের অংশ হিসেবে আবারও কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৫টার পর বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে পরে বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে এক মাসের জন্য কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

বিকেল থেকে বন্দরের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা অধিকাল ভাতা পুনর্বহাল এবং বকেয়া পরিশোধের দাবি জানান। আন্দোলনের কারণে বন্দর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করলেও তারা কোনো ভাতা পাচ্ছেন না।

তাদের ভাষ্য, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দর সচল রাখতে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। ভারত-বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য খালাস ও পাসপোর্ট যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারি ছুটি ও উৎসবের দিনেও কাজ করতে হচ্ছে। অথচ সেই অতিরিক্ত শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, অধিকাল ভাতা পুনর্বহাল এবং বকেয়া পরিশোধের দাবিতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে।

পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনরত কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা আগামী এক মাসের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করার ঘোষণা দেন।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের নেতারা জানান, কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা কর্মবিরতি স্থগিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, বেনাপোল বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। এখানে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারত।#

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন