নাব্য সংকটে ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা-যমুনার ৩০ নৌরুট বন্ধ

96

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ||

ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা-যমুনাসহ ছোট বড় শাখা নদ-নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে নাব্য সংকটে নদীগুলো অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। বর্তমানে এসব নদীর বুকে বড় বড় চর জেগে উঠেছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার পূর্বা লের বিস্তীর্ণ চরা লে যাতায়াতের জন্য আনুমানিক ৩০টি রুটে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়েছে। এ অ লে বর্তমানে ৮টি নৌরুটে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
অপরদিকে ছোট নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ফসলি জমিতে সেচ দেয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে জমি পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলছড়ি বালাসীঘাট, তিস্তামুখঘাট, সৈয়দপুর, এরেন্ডাবাড়ি, ফজলুপুর, সদর উপজেলার কুন্দেরপাড়া, কামারজানি, গিদারি, রামডাকুয়া ঘাট এবং সাঘাটা নৌবন্দরে চলাচলকারি চ্যানেলে পানি সঙ্কট।এসব নৌঘাট থেকে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর, কর্তীমারী, চিলমারি, রৌমারি, জামালপুরের ইসলামপুর, বাহাদুরাবাদ, দেওয়ানগঞ্জ, ফুলছড়ির সানন্দবাড়ী, ফুটানী বাজার, জিগাবাড়ী, হরিচন্ডি, খোলাবাড়ী, খাটিয়ামারী, সুন্দরগঞ্জের হরিপুর, কাপাসিয়া, লালচামার, বেলকাসহ বিভিন্ন ঘাটে নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলছে না
পানি কম থাকায় চরা লের মানুষের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক নৌঘাট বন্ধ বর্তমানে।
নদীর বুকে বিশাল চর জেগে ওঠায় মাইলের পর মাইল হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে চরবাসীকে। উত্তপ্ত বালুর মধ্যে পায়ে হাঁটায় জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
যেসব রুটে অল্প সংখ্যক যান্ত্রিক নৌকা এখনও চলছে, সেসব যানবাহন বহু পথ ঘুরে যাতায়াত করে। ফলে সময় লাগছে দ্বিগুণের বেশি।
চরা লে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষ নৌকায় যাতায়াত করতো। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় চরা লের যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা-যমুনায় পানি কমতে শুরু করে।চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত পানির এমন অবস্থা থাকবে। নদীর বুকে জেগে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য ডুবোচর। ফলে ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করতে পারছে না।
চর লের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই নৌ পথে বালাসীঘাট হয়ে চরে আসতে হয়। চরের জমিগুলোতে চাষাবাদ করে খাবার সগ্রহ করতে হয় আমাদের। বর্তমানে নদীর পানি না থাকায় বালুর মধ্যে মাইলের পর মাইল হেঁটে যাতায়াত করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, নদীগুলো সঠিকভাবে ড্রেজিং করা হলে পানি শুকিয়ে যেতো না। গাইবান্ধায় যত ঘাট রযেছে সবগুলোতে সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা করা উচিত।
ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন বলেন, মুদি দোকানের ব্যবসা করি। কাপাসিয়া চরে প্রতিনিয়ত গাইবান্ধা শহর থেকে মালপত্র নৌপথে আনতে হয়। স্বাভাবিকের তুলনায় বর্তমানে সব মাল বেশি খরচে পরিবহন করতে হচ্ছে শুধু পানি না থাকায়।
তিনি বলেন, পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় লাভের মুখ দেখতে পারছি না। ব্যবসা করে আসছি বিধায় এখনো চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোকলেছুর রহমান বলেন, অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে নদীগুলো আরও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য নৌ চ্যানেলগুলো ড্রেজিং করে চরা লের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে জেলা সদর, ফুলছড়ি গণকবরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে গণকবর, বালাসীঘাট, সিংড়-কাতলামাড়ী-বাগুড়িয়া এলাকায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৪ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নদ-নদীতে কাজ শুরু হয়েছে।

মন্তব্য
Loading...