জীবননগরে এমপির শ্যালিকা অধ্যাপিকা ইতি গৃহকর্মীকে চলস্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিহত গৃহকর্মীর পরিবারকে ম্যানেজ করে লাশ দাফন

156
gb

 শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : ০৫.১১.১৮ : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষিকা ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি আলী আজগার টগরের শ্যালিকা পাপিয়া শারমিন ইতি’র নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা লিলি ঘটনার একদিনের মাথায় রোববার বিকেলে মারা গেছেন। এদিকে অভিযুক্ত অধ্যাপিকাকে রক্ষা করতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিহতের পরিবারকে ম্যানেজ করতে একটি মহল নানা অপতৎপরতা সফল হয়েছে। ফলে লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই রোববার রাতে গৃহপরিচারিকার লাশ দাফন করা হয়েছে। এবিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ না করায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অমানবিক এ ঘটনায় দোষী অধ্যাপিকাকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল। নিহত গৃহপরিচারিকা লিলি জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের আনসার আলীর স্ত্রী। নিহত গৃহপরিচারিকার ছেলে শাহেদ আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আমার মা লিলি খাতুন (৫০) অন্যের বাড়ীতে ঝিঁয়ের (গৃহপরিচারিকার) কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। আমার মা গত দু’সপ্তাহ আগে জীবননগর সরকারী মহিলা কলেজের প্রফেসর পাপিয়া সারমিন ইতির বাড়ীতে মাসিক দু’হাজার টাকা চুক্তিতে গৃহকর্মি হিসাবে কাজ শুরু করেন। মায়ের নিকট শুনেছি ওই প্রফেসর ইতির নিকট থেকে আমার মা কিছু টাকা আগাম নিয়েছেন। আমার মা গত শুক্রবার সকালের দিকে

 

বাড়ীতে আসে এবং আগামী বুধবার বিকেলে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রফেসর ইতি তা মানতে নারাজ। তিনি গত শনিবার সকাল ১১ টার দিকে আমাদের বাড়ীতে আসেন। তাকে দেখে আমার মা দৌড়ে প্রতিবেশীদের বাড়ীতে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রফেসর ইতি আমার মাকে জোর করে টেনে হেঁচড়ে একটি আলমসাধু গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়। পরে শুনি আমার মা লিলি খাতুন আন্দুলবাড়ীয়ায় মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা লিলি খাতুনের বিয়ান বলেন, প্রফেসর ইতি বিয়ান লিলি খাতুনের আতœীয়। আমি বিয়ানের কাছে শুনেছি প্রফেসর ইতির বাড়ীতে মাসিক ২ হাজার টাকা চুক্তিতে গৃহপরিচারিকার কাজে লেগেছিল। কিন্তু তাকে ঠিকমত খেতে দিত না তারা। আবার বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করত। ঘটনার দিন সকালে বিয়ান লিলিকে প্রফেসর ইতি’র সাথে মানুষ যেতে দেখেছে। তার ঘন্টা খানেকের মাথায় বিয়ানকে মারাতœক অসুস্থ্য অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে বিয়ান আমাকে জানায়, সে ইতির সাথে গাড়ীতে যেতে চাচ্ছিল না। এক পর্যায়ে তাকে টেনে হেঁচড়ে আলমসাধু (শ্যালো ইঞ্জিন চালিত অবৈধ যান) গাড়ীতে তোলে। কিছু দুর যাওয়ার পর তাকে বলে “তুই যাবিনে যখন, তুই যা” বলে চলন্ত গাড়ী থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে আন্দুলবাড়ীয়ার আওয়ামীলীগ নেতা মীর্জা হাকিবুর রহমান লিটন বলেন, নিহতের ছেলে শাহেদ আলী একজর সহজ-সরল মানুষ। সে ঘটনার ব্যাপারে মামলা-মোকদ্দমা করতে সাহস না পাওয়ায় ঘটনার ব্যাপারে তার কোন আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। ঘটনার ব্যাপারে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কোন আপত্তি না থাকায় বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফনের প্রক্রিয়া চলছে। এব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যাপিকা পাপিয়া সারমিন ইতি বলেন, আমার সাথে আলমসাধু যোগে আসছিল ঠিক। তবে আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছি কথাটি সঠিক নয়। লিলি খাতুন আমর ফুফু হয়। তিনি বিভিন্ন এনজিও থেকে অনেক টাকা ঋণ নেয়ায় চিন্তা করতে করতে গাড়ী থেকে পড়ে যায়। আমি এমপি সাহেবের শ্যালিকা হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র জানিয়েছেন, অভিযুক্ত পাপিয়া সারমিন ইতি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি আলী আজগার টগরের শ্যালিকা ও প্রভাবশালী ঘরের মেয়ে হওয়ার কারণে নিহতের পরিবারকে বোঝানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা করে কোন লাভ হবে না। তার চেয়ে বরং কিছু টাকা পয়সা নিয়ে মিটিয়ে ফেলায় ভাল হবে। এ অবস্থায় নিহতের পরিবারকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করতে সক্ষম হওয়ায় নিহত গৃহপরিচারিকার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন অভিযোগ না করে ময়না তদন্ত ছাড়াই রোববার রাতে লাশ দাফন করা হয়েছে। এ কারণেই নিহতের ছেলে শাহেদ আলী রোববার বিকেলে অধ্যাপিকা পাপিয়া সারমিন ইতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে করা অভিযোগের সুর পাল্টে রাতে বলেন, তার মা গাড়ী থেকে পড়ে গিয়ে মারাতœক অসুস্থ্য হওয়ার কারণে মারা গেছে। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়া বলেন, ঘটনার ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শুনেছি আলমসাধু গাড়ী যোগে যাওয়ার সময় দু’মহিলার মধ্যে ধাক্কাধাক্কীতে একজন অসুস্থ্য হয়ে মারা গেছে। তবে ঘটনার ব্যাপারে লিখিত অভিযেগা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। # #

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন