Bangla Newspaper

এডমন্টনে বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশনে বহিস্কার উত্তেজনা ও অসন্তোষ

584

এডমন্টন, আলবার্টা, কানাডা: এডমন্টন প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রাচীন সংগঠন ১৯৭৯এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমন্টন (বিসিএই) একশ্রেনীর কট্টর, প্রতিক্রিয়াশীল ও সুবিধাবাদীদের আধিপত্যে অতীতের সকল সুনাম, সুখ্যাতি খোয়াতে বসেছে। কমিউনিটির স্বার্থের পরিপন্থী একের পর এক বিতর্কিত ও বেআইনী সিদ্ধান্ত গ্রহনের কারনে নানা ধরনের অস্থিরতা তৈরী ও মামলা-মোকর্দমা সৃজনের পথ প্রশ্বস্থ হচ্ছে.

ডি-ফেক্টো একট  বিশেষ সাধারন সভায় এসোসিয়েশনের দুই-দুইবার নির্বাচিত প্রেসিডন্ট ম লস্করকে সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় সংগঠন থেকে বহিস্কার এবং বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমন্টনের স্পেশাল প্রজেক্ট কমিটির (বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায়) নির্বাচিত চেয়ারপার্সন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক দেলোয়ার জাহিদকে সকল অনুষ্ঠানে অনভিপ্রেত ঘোষনা করেছে । প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের প্রনীত নীতিমালাকে পদদলিত করে একই সভায় সংবিধানকে পরিবর্তন ও তা পূনঃস্থাপন করে সম্পূর্ণ নজির ও এজেন্ডা বিহীনভাবে এধরনের হঠকারী সিদ্ধান্তে কমিউনিটিতে তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

গত ৮ই সেপ্টেম্বর এডমন্টনের সেজং মাল্টিকালচারাল সেন্টারে ঈদ-আনন্দ উৎসব ও ডিনার পার্টির আড়ালে একটি বিশেষ সাধারন সভার নামে সংবিধান পরিবর্তন এবং বিতর্কিত এ সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রয়োগ শুরু হয়। জানা যায়, উক্ত সভা পরিচালনার প্রয়োজনীয় উপস্থিতি নিশ্চত করা যায়নি। এ গোষ্ঠীর অন্যতম নায়ক শহীদুল ইসলাম একজন কট্টরপন্থী এবং তার ভাবশিষ্য ও সহযোগি ফিরোজ মিয়া।

ডাঃ আলীর নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন (২৯ অক্টোবর ২০১৭) সর্ব সম্মতভাবে ম. লস্করকে সভাপতি সহ নির্বাচিত কার্য্যনির্বাহী পরিষদ ঘোষনা করেন । অতঃপর ম. লস্করকে বাদ দিয়ে গত ফেব্রোয়ারী মাসে অবৈধ পন্থায় ফিরোজ মিয়াকে সভাপতি বানানো হয়েছে।

এসোসিয়েশনের নীতিপদ্ধতি ও কৌশলগত বিষয়ে মতবিরোধ, ভাষা ও স্বাধীনতা দিবসের অমর্যাদা, ও মুক্তিযোদ্ধাদের সণ্মাননা দেয়ার নামে অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে তা বাতিল, এবং একটি কমিউনিটি সেন্টার ক্রয়ের চুড়ান্ত পর্যায়ে কৌশলে তা বাতিল করার মতো হীন ঘটনায় ও বিগত সাধারন সভাগুলোতে গঠনমূলকভাবে সোচ্চার ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহিদ। সংগঠন ব্যবস্থাপনায় এতেও কোনরূপ পরিবর্তন না আসায় তিনি এসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট পদ থেকে ইস্তফা দেন এমনকি ২০১৮ এর সদস্যপদ নবায়নে ও বিরত থাকেন। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এধরনের সিদ্ধান্তে সকলে হতভম্ব।

গোষ্ঠীর স্বাধীনতা তথা কোন গ্রুপে স্বেচ্ছায় যোগদান বা ছেড়ে যাওয়া একটি পৃথক অধিকার, এসোসিয়েশনের সদস্যদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সমষ্টিগতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের গ্রুপ, এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে সদস্যপদ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার সহ উভয় অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে রচিত হয় সভ্য সমাজের সংবিধান ও নীতিমালা। সংস্থার স্বাধীনতায়, মানবাধিকার অপরিহার্য, সমষ্টিগতভাবে প্রচার, প্রকাশ, অনুসরণ এবং সাধারণ স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে একসাথে আসা, মত প্রকাশ ও অধিকার কোন অ্যাসোসিয়েশনে স্বাধীনতার মুখ্য বিষয়। উভয়ই একক ও সমষ্টিগত অধিকার, যা সমস্ত আধুনিক ও গণতান্ত্রিক আইনী ব্যবস্থা দ্বারা নিশ্চিত করা হয়, মানবাধিকারের ইউরোপীয় কনভেনশনের ১১ অনুচ্ছেদ, কানাডিয়ান অধিকার ও স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ২০ এবং ২৩ অনুচ্ছেদ এ অধিকারগুলোকে নিশ্চিত করেছে।

এডমন্টনে বাংলাদেশ কানাডা হেরিটেজ সোসাইটি অব এডমন্টন, আলবার্টা বঙ্গ সোসাইটি, কৃষ্টি, বাংলাদেশ ষ্টুডেন্টস এসোসিয়েশন, এডমন্টন বেঙ্গলী এসোশিয়েশন, এমজেএমএফ বাংলাদেশ স্পোর্টস ক্লাব, রয়েল বেঙ্গল ক্রিকেট ক্লাব, ও বাংলাদেশ ক্লাব এডমন্টন অব কানাডা সহ বেশ কিছু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন মূলক সংগঠন রয়েছে। এগুলোর সদস্যরা কোন না কোনভাবে বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমন্টনকে সহায়তা করে আসছিলেন এখন তা কালাকানুনের ভেড়াজালে খর্ব হতে বসেছে। একটি স্বেচ্ছাসবী সংগঠনে স্বৈরাচারীভাবে অনেকের সদস্যপদ বাতিল ও সীমিত করার প্রক্রিয়া এবং বহিস্কারের মতো নগ্ন পদক্ষেপ কমিউনিটিতে চরম উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সক্রিয় ও সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের ক’জন এবং সাবেক সভাপতিদের ক’জন । উল্লেখ্য যে, গত ১০ই জানুয়ারী ২০১৮ কোর্ট অব কুইন বেঞ্চ আলবার্টায়  শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিলো- যার নং ১৮০৩. ০০৪৯৪। এডমন্টনের নেতৃস্থানীয়    বয়োজেষ্ঠদের এক সভায় উপস্থিত সকলের অনুরোধে কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে বাদী ওই মামলাটি  থামানোর উদ্যোগ নেন।

একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এসোশিয়েশনের সাধারন সদস্যদের উত্তেজিতকরণের অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং একের পর এক কমিউনিটিতে বিভাজনের কুটকৌশল প্রয়োগ করছে. সিটির প্রবাসী বাঙ্গালীরা বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ এসমস্ত বেআইনী তৎপরতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হচ্ছে।

Comments
Loading...