ব্রিটেনে এশীয় বংশোদ্ভূতরাই বেশি রক্ষণশীল: জরিপ

186
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক //

যুক্তরাজ্যের এশীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মননকে বুঝতে বিবিসি একটি জরিপ চালিয়েছ। এই জরিপে এশিয়ার অন্যান্য স্থানের পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশে থেকে যারা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হয়েছেন বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত উঠে এসেছে। বিবিসি জরিপের ফল দেখে মন্তব্য করেছে, ব্রিটেনে এশীয় বংশোদ্ভূতরাই বেশি রক্ষণশীল। বিবিসির পক্ষে জরিপটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কমরেস জানিয়েছে, এশীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকরা যে শুধু রক্ষণশীল তা নয়। আশাবাদী মনোভাবও তাদের মধ্যে অন্যদের তুলনায় বেশি। জরিপে যে দুই হাজার ২৬ জনের তথ্য নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে এক হাজার ১৯৭ জনের জন্ম যুক্তরাজ্যে। এদের বেশিরভাগেরই আদিভূমি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। প্রায় একই সংখ্যক ব্রিটিশ সামাজের মূল ধারার নাগরিকদের তথ্যও জরিপে ব্যবহার করা হয়েছে। সেখান থেকে উঠে এসছে মূলধারার ব্রিটিশ মননের সঙ্গে এশীয় বংশোদ্ভূতদের চিন্তার পার্থক্য।

বিবিসি এশিয়া নেটওয়ার্কের মুখপাত্র নোমিয়া ইকবালের ভাষ্য, ‘জরিপে অংশগ্রহণকারী অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ব্রিটিশ সমাজে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য তাদের এশীয় পরিচয়সূত্রকে কিছুটা হলেও চাপা দিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর অর্থ হচ্ছে, তারা ব্রিটিশদের মতো শোনায় এমন নাম বা মূল ধারার উচ্চারণ রীতি বেছে নিয়েছেন। জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে সাধারণ ব্রিটিশ জনগণের তুলনায় এশীয় বংশোদ্ভূতরা বেশি আশাবাদী মানসিকতার। বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকলেও তারা ঠিকই তাদের পথ তৈরি করে নিচ্ছেন। পরস্পরবিরোধী বৈশিষ্ট্যেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে চলতে তারা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।’

জরিপের ফলাফল থেকে জানা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারী এশীয় বংশোদ্ভূতদের এক তৃতীয়াংশই মনে করেন, বিয়ে আগে যৌন সম্পর্ক খারাপ বিষয়। অন্যদিকে মূল ধারার নাগরিকদের মাত্র পাঁচ শতাংশ বিষয়টিকে খারাপ মনে করেন। সমকামিতার বিরোধিতা করেছেন ৩৬ শতাংশ এশীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ। আর মূল ধারার নাগরিকদের মাত্র ১৫ শতাংশ সমকামিতার বিরুদ্ধে। ধর্ম কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা জানতে যে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাতে ৪৬ শতাংশ এশীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বলেছেন, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ এর বিপরীতে মাত্র ১২ শতাংশ মূল ধারার ব্রিটিশ নাগরিক ধর্মকে ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ বলেছেন।

এসব ফলাফলের বিষয়ে ইকবাল মন্তব্য করেছেন, ‘খুব সম্ভবত এশীয় বংশোদ্ভূত অভিভাবকদের কাছ থেকেই তাদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এসব ধ্যান-ধারণা প্রবেশ করেছে। এ জন্যই এশীয় বংশোদ্ভূত সবচেয়ে নবীন প্রজন্মের ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যেও সমকামিতা ও বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মতো বিষয়গুলোতে রক্ষণশীলতার বিষয়টি এতো বেশি দেখা যাচ্ছে।’

বিবিসি ‘বিগ ব্রিটিশ এশিয়ান সামার সিরিজ’ নামের অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ৩০ লাখ দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকের জীবন ও মননের ওপর করপোরেশনটি তার বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে অনুষ্ঠান প্রচার করবে। বিবিসির ফ্যাকচুয়াল কমিশনিংয়ের কন্ট্রোলার অ্যালিসন কির্কহাম বলেছেন, ‘বিগ ব্রিটিশ এশিয়ান সামার একটি খুবই চমৎকার অনুষ্ঠানমালা। পৃথিবীর দুই প্রান্তে থাকা মানুষদের এখন একই সঙ্গে থাকার ক্ষেত্রে ফুটে ওঠা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈচিত্র তুলে ধরা হবে এই অনুষ্ঠানমালায়। বলিউড থেকে শেরউড, ওই অনুষ্ঠানমালায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তথ্য তুলে ধরা হবে। কোনও কোনও অনুষ্ঠান উদযাপনধর্মী, কোনটা চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু সবগুলোই অনুপ্রেরণামূলক।’ বিবিসি বলেছে, ওই অনুষ্ঠানমালায় এশীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশদের সাংস্কৃতিক এবং শৈল্পিক অবদান এবং যুক্তরাজ্যের কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে থাকা বৈচিত্রকে তুলে ধরা হবে।

অনুষ্ঠানমালায় ‘প্যাসেঞ্জার’ নামের তিন পর্বের একটি অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। সেখানে ১৯৩০ ও ১৯৬০ দশকের মধ্যে ভারতীয় মহাদেশ থেকে ব্রিটেনে যাওয়া মানুষদের আর্কাইভে থাকা চিত্র দেখানো হবে। ‘বিগ ব্রিটিশ এশিয়ান সামার’ অনুষ্ঠানমালায় সাধারণভাবে প্রচারিত অন্যান্য অনুষ্ঠানের বিশেষ কিছু পর্ব উপস্থাপন করা হবে। যেমন ‘ইনসাইড দ্য ফ্যাক্টরি’ নামের সিরিজটির কিছু পর্ব দেখানো হবে। সেখানে বাংলাদেশের মতো ভারতীয় মহাদেশের অন্যান্য স্থানের খাবারের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ‘গার্ডেনার্স ওয়ার্ল্ডের’ যেসব পর্ব দেখানো হবে তাতে জানা যাবে ব্রিটিশ বাগান সংস্কৃতিকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে দক্ষিণ এশীয়রা।