কাশিমপুর পামপ হাউজে ৭৮ কোটি টাকার নতুন মেশিন স্থাপন : মনু প্রকল্পের ভেতর কৃষিতে সুফল

181
gb

নজরুল ইসলাম মুহিব মৌলভীবাজার প্রতিনিধি \

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনু প্রকল্পের অধিনে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরের ২৪ হাজার ১শ ৭৮ হেক্টর এলাকার ১৯ হাজার ২শ ২৮ হেক্টর চাষযোগ্য জমির বন্যা নিয়ন্ত্রন, নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থা প্রদান করার লক্ষে কাউয়াদীঘি হাওরের কাশিমপুর পা¤প হাউজে দ্বিতীয় বারের মত স্থাপন করা হয়েছে নতুন ৮টি পা¤প মেশিন। পুনরায় নতুন মেশিন স্থাপন করায় স্থানীয় কৃষকরা বেশ খুশি। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ যাবৎ এই হাওরে পানি প্রযোজনীয় সেচ এর অভাবে জলমগ্ন হয়ে থাকতো প্রায় বারোমাস। এতে কৃষকেরা কৃষি ক্ষেতে তেমন একটা লাভমান হতে না। এবার নতুন পা¤প স্থাপনের পর বিশাল এই হাওরে আগের মত পানি অতিরিক্ত পানি আর থাকছে না। পাহাড়ি ঢল অথবা বৃষ্টির পানি হাওরে ঢুকে পড়লে পা¤প মেশিন দিয়ে সেচ করে কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয় পাউবো মৌলভীবাজার কর্তৃপক্ষ। ১৯৭৫-৭৬ সালে পা¤প হাউজ স্থাপন করা হয়। পাউবো প্রকৌশলীরা বলছেন এ মেশিনগুলো স্থাপন হওয়াতে মনু প্রকল্পের আওতার সকল কৃষকেরা নির্ভিগ্নে কৃষিক্ষেত করতে পারবে। বন্যা,কিংবা বৃষ্টির পানি হাওরে লেগে থাকলেও নতুন সংযোগের কারনে সহজে সেচ করে কুশিয়ারা নদীতে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। এদিকে রুপা আমন চাষাবাদ করতে কাউয়াদীঘি হাওর এলাকার কৃষকেরা জমি আবাদ করতে ব্যস্থ সময় পাড় করছেন। তবে হাওর এলাকার সিংহভাগ জমিতে পানি এখনো লেগে থাকায় রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ,ফতেপুর, ও সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা এখনো ও কাটেনি। আখাইলকুড়া ইউনিয়নের (মিরপুর) হাজী নোমান আহমদ জানান সময়মতো পানি সেচ করা হয় না,অসময়ে তাদেরকে কাজ করতে দেখা যায়। পাউবো বিভিন্ন অজোহাত দেখিয়ে সেচকার্য করে না, এতে কৃষকদের ভোগান্তি হয়। ফতেপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও বেড়কুড়ি গ্রামের বাসিন্দা হাজি মোঃ ইসমাঈল আলী বলেন,“মেঘে পানি বাড়ছে মিশিনে হিছের (সেচ করছে) না। জমি পানিতে তল করিলিছে। দুই-চাইর দিনের মধ্যে হাইল (সাইল) ধানের চারা রূপন করমু। তিনি তার ভাষায় আরো বলেন, “এবার ১২ কিয়ার হাইল জমি ক্ষেত করমু”। “আরো ১০-১২ কিয়ার জমি পানির তলে আছে এখনো”। তারা ( পানি উন্নয়ন বোর্ড) হিচলে (সেচ করলে) ক্ষেত করমু,। তিনি আরও জানিয়েছেন, ফতেপুর ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী শাহাপুর মৌজায় প্রায় ৫শ কিয়ার সাইল জমি এখনো পানির নীচে। এছাড়াও ইউনিয়নের গন্দিপুর,ভেড়িগাঁও,ছোয়াব আলী, মুনিয়ার পাড় ,রামপুর,গালিমপুরসহ অনেক এলাকায় জমি তলিয়ে যাওয়ায় ধানের চারা রূপন করতে পারছেনা কৃষকেরা। পানি সেচ করে কুশিয়ারা নদীতে দ্রæত নিস্কাসন করা হলে এসব এলাকায় সাইল (রূপা আমন) ক্ষেত হবে। বেড়কুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও এডভোকেট মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেড়কুড়ির পূর্ব ও দক্ষিণ এলাকায় এবার ১০ কিয়ার এর মত জমিতে আমন ধানের চারা রূপন করা যাবে। অবশিষ্ট ৫ থেকে ১০ একর জমি পানির নীচে তলিয়ে আছে এখনো। জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার অন্যবারের চেয়ে কাউয়াদীঘি হাওরে পানি একটু কম। জলাবদ্ধতা তেমন একটা সমস্যা বলে মনে হচ্ছে না। জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার কাজী লুৎফুর বারী সোমবার বলেন, গত বারের চেয়ে এবার কাউয়াদীঘি হাওরে ৩ফুট পানি কম দেখা যাচ্ছে। হাওরের উচু এলাকায় রোপা আমনের মধ্যে ৪৯,বিআর ২২জাতের ধান রোপন করা হচ্ছে বেশী। জেলায় আমনের লক্ষ মাত্রা ৯৬ হাজার ২শ ৪৬ হেক্টর। এ পর্যন্ত চাষ করা হয়েছে ৪ হাজার ২শ ৭৫ হেক্টর জমি। কাউয়াদীঘি হাওরে আমন চাষের পরিমান ২শ ৯৩ হেক্টর জমি এবং জেলায় রূপা আমন চাষে জমির পরিমান ৯৬ হাজার ৪শ ৩৫ হেক্টর । মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, নতুন ৮টি পা¤প মিশিন চালু হয়েছে। হাওরের পানি সেচ করতে ৫-৬টি মিশিন চালু থাকে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুর হান্নান বলেন, ধানের বীজতলায় পানি উঠেছে। তবে নতুন করে পা¤প মেশিন চালু হওয়াতে কৃষকেরা উপকার পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কাউয়াদীঘি হাওরে পানির পরিমান ৮.১ মিটার ও কুশিয়ারা নদীতে ৮.২ মিটার। নদীতে পানির পরিমান বেশি থাকায় সেচ করে হাওর থেকে পানি নিস্কাসন করতে হচ্ছে। #