৪১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে ৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা

487
gb

মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা, খুলনা  ||
পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে ৪১০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২শ হেক্টর বেশি। তরমুজ চাষ লাভ জনক হওয়ায় তিলচাষ বাদ দিয়ে কৃষকরা তরমুজ চাষে ঝুঁকে পড়ায় এ বছর তরমুজের আবাদ বেশি হয়েছে বলে কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছেন। এদিকে পানির অভাবে তরমুজ চাষ কিছুটা বিঘিœত হলেও ভাল ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন এবং এ বছর ৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তরমুজ চাষীরা।
সূত্রমতে, উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডার ও গড়ইখালী ইউনিয়নের বাইনবাড়ীয়া কুমখালীতে দীর্ঘদিন তরমুজ চাষ হয়ে আসছে। অত্র এলাকা তরমুজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ। এখানকার তরমুজের স্বাদে ও রয়েছে ভিন্নতা। অন্যান্য স্থানের চেয়ে এখানকার তরমুজ সুস্বাদু হওয়ায় উৎপাদিত তরমুজ ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে। এলাকার শত শত কৃষক তরমুজ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তরমুজ মৌসুমে সেচ ও পরিচর্যায় শ্রমের কাজ করে শত শত নারী ও পুরুষ বাড়তি আয় করে থাকেন। উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ৪১০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড জাতের পাকিজা ও ড্রাগন তরমুজের আবাদ হয়েছে। উন্নত জাতের মধ্যে পাকিজা ৭০ শতাংশ ও ড্রাগন ৩০ শতাংশ। দেলুটি ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডারে ৩৮০ হেক্টর এবং গড়ইখালী ইউনিয়নের বাইনবাড়ীয়া কুমখালী এলাকায় ৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই সেচের জন্য পানির কোন সমস্যা ছিল না। তবে এ বছর তেমন কোন বৃষ্টি না হওয়ায় শেষ দিকে এসে পানির চরম সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে দেলুটি ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডারের তরমুজ চাষীরা চরম বিপাকে পড়েন। খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়। কালিনগর গ্রামের মিন্টু বালা জানান, চলতি মৌসুমে আমি ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মৌসুমের শেষের দিকে এসে পানি নিয়ে মহা বিপাকে রয়েছি। পাইপ দিয়ে কয়েক’শ মিটার দূর থেকে পানি এনে সেচ দিতে হচ্ছে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে তরমুজ বিক্রির উপযোগী হবে বলে মিন্টু বালা জানান। তিনি বলেন, এ বছর বিঘা প্রতি ৬০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করছি। পার্বতী সানা জানান, তরমুজ চাষের অপার সম্ভাবনা থাকলেও সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থাপনা না থাকায় তরমুজ চাষ বিঘিœত হচ্ছে। বসতবাড়ীর পুকুর থেকে পাইপের মাধ্যমে ক্ষেতের সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ভাবে পানি দেওয়া অনেক কঠিন কাজ। লতিকা ও কামনা বালা জানান, তরমুজ চাষ মৌসুমে সেচ ও পরিচর্যায় শ্রমিকের কাজ করে ঘন্টা প্রতি ৫০ টাকা হারে বাড়তি আয় করে থাকি। চাষী মেঘনা বালা জানান, উৎপাদিত তরমুজ পর্যায় ক্রমে ২ থেকে ৩ বার উত্তোলন করা হয় এবং তা ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারী বিক্রি করা হয়ে থাকে। দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, ২২ নং পোল্ডার তরমুজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ। গত বছর ২০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছিল। এ বছর আশা করছি চাষ বেশি হওয়ায় ২২ নং পোল্ডার থেকে ৪০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে। স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি বলেন, ২২ নং পোল্ডারের ৫টি ওয়ার্ডের ভিতর দিয়ে ডিহিবুড়া নামে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি সরকারি খাল রয়েছে। এই খালের পানি দিয়ে এলাকার চাষীরা তরমুজ সহ কৃষি ফসল উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু খালটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। এ জন্য মৌসুমের শেষের দিকে এসে খালটি শুকিয়ে যায়। ফলে পানির অভাবে তরমুজ চাষ বিঘিœত হয়। খালটি খনন করা গেলে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে তরমুজ সহ অত্র এলাকার কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, তরমুজ চাষ লাভ জনক হওয়ায় তিলচাষ বাদ দিয়ে চাষীরা এখন তরমুজ চাষে ঝুকছে। ফলে এ বছর লক্ষমাত্রার চেয়ে ২শ হেক্টর বেশি জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের এ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ সহ সকল উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আশা করছি বিগত বছরের চেয়ে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হবে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More