গাইবান্ধায় সাংবাদিককে হয়রানি করায় ওসি সহ দুই পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

387
gb

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ||

গাইবান্ধার সাংবাদিক জাভেদ হোসেনকে প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ঘটনায় গাইবান্ধার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. শাহরিয়ার ও এসআই মমিরুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের জেলা সদস্য সচিব জাভেদ হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে রংপুর জোনের ইন্সপেক্টর অব পুলিশ তরিকুল ইসলাম তরিককে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কোন তদন্ত ছাড়াই তৎক্ষণাত মামলা রুজু করে হয়রানি করায় ঢাকাটাইমসের জেলা প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) গাইবান্ধা জেলা শাখার সদস্য সচিব জাভেদ হোসেন গাইবান্ধা সদর থানার ওসি ও এক এসআই-’র বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালকের (আইজিপি) অভিযোগ শাখায় অভিযোগ করেছিলেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি পুলিশ হেডকোয়াটার্সে উপস্থিত হয়ে আইজিপির কমপ্লেইন শাখায় এই অভিযোগের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাভেদ হোসেনের বাবা মৃত নিজাম উদ্দিন ১৯৮৫ সালে গণপূর্ত তৎকালীন বিল্ডিং ডিভিশন থেকে ৬ বাই ১০ একটি দোকান ঘর লিজ নেন। যা পুরাতন জেলখানার (বর্তমানে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল) পশ্চিম পাশে। তার পাশে পুরাতন জজ কোর্ট তৎকালীন মুনসেফ কোর্টের জায়গায় মাহাবুবুল আলমের মারিয়া বেকারি নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি মাহাবুবুল আলম তার বাহিনী নিয়ে নিজাম উদ্দিনের দোকানের পেছনের জায়গা প্রাচীর দিয়ে দখল নেয়ার সময় জাভেদ হোসেন থানায় অভিযোগ করেন। সে অভিযোগের আলোকে গাইবান্ধা সদর থানার এসআই মমিরুল হক ওসি ইনচাজ খান মো. শাহরিয়ারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহাবুবুল আলমের দখলের কাজ বন্ধ করে থানায় কাগজ নিয়ে আসতে বলেন। তার কিছুক্ষণ পর মাহাবুবুল আলম তার অবৈধ শক্তি প্রয়োগ করে দখলের কাজ আবার শুরু করেন। আবার কাজ শুরুর খবরে সাংবাদিক জাভেদ আবার ওসিকে বিষয়টি বললে ওসি তাকে এসআই মমিদুলকে জানাতে বলেন। সাংবাদিক জাভেদ মমিদুলকে বিষয়টি ফোনে বললে এসআই সেখানে যেতে অপারগতা স্বীকার করে বলেন, একজন নেতা (আশাদুজ্জামান হাসু) আমাকে ফোন করে ওখানে যেতে নিষেধ করেছে সে সাংবাদিক জাভেদকে থানায় দেখা করতে বলে। জাভেদ হোসেন থানায় গিয়ে ওসি তদন্ত আরশেদুল হককে বিষয়টি জানালে তিনি সেই নেতা (আশাদুজ্জামান হাসু)-কে মামা সম্বোধন করে মাহাবুবুল আলমের দোকানের কাগজ থানায় পাঠাতে বলেন! এক ঘণ্টা জাভেদ থানায় অবস্থান করলেও মাহাবুবুল আলম তার দোকানের লিজকৃত কাগজ আনতে ব্যর্থ হন।

সে সময় সাংবাদিক জাভেদের ছোট ভাই জিহাদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে দখলে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে লোহার রড, হাতুড়ি পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে।

তখন সাংবাদিক জাভেদ থানায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানান।

সাংবাদিক জাভেদ তার ভাইকে বাঁচাতে ওসি খান মো. শাহরিয়ার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি থানায় কোন পিকআপ নেই বলে জানান। তখন জাভেদ নিজেই তার বাইক নিয়ে ভাইকে উদ্ধার করতে থানা থেকে একাই বেড়িয়ে যান।

সাংবাদিক জাভেদ ঘটনাস্থলে পৌছার পর সেখানে সদর ফাঁড়ির এটিএসআই আব্দুর রউফ তার সংগীয় ফোর্স নিয়ে উপস্থিত হন এবং ঘটনাস্থল থেকে জিহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতালে পরে তার অবস্থার অবনিত হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

ঘটনার পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারি আহত জিহাদের স্ত্রী ববি বেগম বাদী হয়ে ৬জনের নাম উল্লেখ করে ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন। সে অভিযোগের ভিত্তিতে ০৭ ফ্রেব্রুয়ারি তদন্তও হয়, কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে মামলাটি ওসি রুজু না করে কোর্টে মামলাটি করতে বলেন।

অবশেষে রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত ডিআইজি মজিদ আলী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের তৎপরতায় ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ববি বেগমের মামলাটি সদর থানায় মামলা হিসেবে রুজু করেন। কিন্তু অবাক করার মতো ঘটনা ঘটে ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে অর্থাৎ ববি বেগমের মামলাটির একদিন পর ইজাহারভুক্ত ১নং আসামি মাহাবুবুল আলম. আসাদুজ্জামান হাসুসহ থানায় উপস্থিত হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারির একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে সাংবাদিক জাভেদ ও তার ভাই জিহাদের নামে ৫লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি মামলা করেন এবং তা তৎক্ষণাৎ কোন তদন্ত ছাড়াই ওসি সদর থানায় মামলাটি রুজু করেন।

অভিযোগে সাংবাদিক জাভেদ হোসেন দাবি করেন, ৩ ফেব্রুয়ারি মূলত সেখানে কোন ঘটনায় ঘটেনি। যদি ঘটেই থাকত, তবে ববি বেগমের মামলার পর অভিযোগ কেন করা হলো?

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ রংপুর জোনের ইন্সপেক্টর অব পুলিশ তরিকুল ইসলাম তরিক তার অফিসে সাংবাদিক জাভেদ হোসেনকে ডেকে অভিযোগকারী হিসেবে শনাক্ত করে লিখিতভাবে তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।