দামুড়হুদায় শোকের ছায়া

রাজশাহীর পদ্মায় ডুবে নিখোঁজ দামুড়হুদার মেধাবী ছাত্র মৃন্ময়ের লাশ ৪ দিনের মাথায় উদ্ধার

600
gb

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: রাজশাহী নগরীর চরশ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মায় বন্ধু-বান্ধবদের সাথে নৌকা ভ্রমনে গিয়ে গত ১৮ মার্চ রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মাঝ নদীতে নৌকার মাথায় দাড়িয়ে মোবাইলে সেলফি তুলতে গিয়ে নৌকা থেকে পা ফসকে পানিতে পড়ে ডুবে নিখোঁজ হওয়া মেধাবী কলেজ ছাত্র আসিফ আল মাসুদ মৃন্ময়ের (১৮) লাশ ৪ দিনের মাথায় উদ্ধার করেছে ফায়ার ব্রিগেডের ডুবুরীরা। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী নগরীর চরখিদিরপুর এলাকা থেকে জেলেদের সহায়তায় ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে ফায়ার ব্রিগেডের ডুবুরিরা।
নিহত আসিফ আল মাসুদ মৃন্ময় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদরের দশমীপাড়ার মহাসিন আলী ওরফে মহাসিন দর্জির ছেলে ও রাজশাহী মডেলস্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র।
নিহত আসিফ আল মাসুদ মৃন্ময় তার মামা রাজশাহী কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী প্রভাষক আব্দুল মালেকের বাসায় থেকে পড়ালেখা করত। সম্প্রতি মামার বাড়ি ছেড়ে সে নগরীর একটি ছাত্রাবাসে ওঠে।
মৃন্ময়ের লাশ উদ্ধারের সংবাদ শুনে তাকে শেষ বারের মত এক নজর দেখার জন্য সন্ধা থেকে বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষ জড়ো হতে থাকে মহাসিন দর্জির বাস ভবনসহ আশে পাশের এলাকায়। রাত ১২ টা ২ মিনিটে মৃন্ময়ের লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সটি বাড়ির সামনে পৌছালে পরিবারের লোকজন ও সহপাঠিদের কান্নায় এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। লাশ দেখতে সকলে ছুটে জান এ্যাম্বুলেন্সের কাছে। কিন্তু লাশের অবস্থা ভাল না থাকায় তা দেখানো সম্ভব হয়নি।
এ্যাম্বুলেন্সটি বাড়ির সামনে মিনিট ১০ দাড়িয়ে লাশ নিয়ে রওনা হয় দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুল মাঠে পূর্ব নির্ধারিত জানাযার মাঠে। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মৃন্ময়ের জানাযা নামাজ পড়ান দামুড়হুদা উপজেলা মসজিদের ঈমাম আব্দুল গফুর। ওই মাঝ রাতের জানাযায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় হাজার খানেক মানুষ অংশ নেন। জানাযা নামাজ শেষে দশমী কবরস্থানে তার দাফন কাজ সম্পর্ণ করা হয়।
এ দিকে কলেজছাত্র মৃন্ময় গত ১৮ মার্চ রোববার রাজশাহী পদ্মায় ডুবে নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারে যেমন নেমে এসেছিলো শোকের মাতম। তেমনই দামুড়হুদা বাসীর মাঝেও নেমে এসেছিলো শোকের ছায়া। অবশেষে ৪ দিনের মাথায় মৃন্ময়ের লাশ পাওয়া গেলে পরিবারের সাথে দামুড়হুদা বাসীর শোকের মাত্রাটা বাড়লেও লাশ পাওয়ায় পরিবারসহ সকলের মাঝে লাশ না পাওয়ার হতাশাটা দুর হয়।
রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফরহাদ হোসেন জানান, পদ্মার মূল প্রবাহে নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হন কলেজ ছাত্র মৃন্ময়। খবর পেয়ে ওই দিন থেকেই উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ডুবুরিরা। কিন্তু মরদেহের সন্ধান মেলেনি। বুধবার সকালেও নদীতে টহল দিয়ে মরদেহের সন্ধান চালানো হয়। পরে দুপুরে জেলেরা ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জেলেদের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন জানান, মরদেহটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধার আগে পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়। এবিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে নিহতের স্বজনরা।
উল্লেখ্য, রাজশাহী মডেলস্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র দামুড়হুদা দশমীপাড়ার মহাসিন দর্জির ছেলে আসিফ আল মাসুদ মৃন্ময়সহ ৬ শিক্ষার্থী গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পদ্মা নদীতে বেড়াতে যায়। এদের মধ্যে ৩জন ছাত্র ও ৩জন ছাত্রী ছিলো। তারা পদ্মা নদীর টি বাঁধ এলাকা থেকে একটি নৌকা ভাড়া নিয়ে রাজশাহীর চরশ্রীরামপুর অঞ্চলে পদ্মা নদীর মধ্যচরের বাঁধ এলাকায় ঘুরছিলো। এরই একপর্যায়ে সে নৌকা থেকে পড়ে পানিতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের সাত সদস্যের একটি দল দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করলেও তার হদিস মেলাতে পারেনি। গত সোমবার ও মঙ্গলবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরিদল পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও কোন সন্ধান মেলাতে পারেনি। গতকাল বুধবার সকালের দিকেও ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরিদল স্পিড বোর্ড নিয়ে পদ্মা নদীতে টহল দেয়। মৃন্ময় নৌকার মাথায় দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে পা ফঁসকে নৌকা থেকে পড়ে ডুবে যায় বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেলেও তা নিয়ে পরিবারে সদস্যদের মাঝে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সে রাজশাহী নগরীর একটি ছাত্রবাসে থেকে লেখাপড়া করতো।