বৃদ্ধ বয়সে মৃত সন্তানের লাশের জন্য পথ চেয়ে আয়েশা

597
gb

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
রাজধানী ঢাকার পীরেরবাগে সন্ত্রাসীদের সাথে গোলাগুলিতে নিহত গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জালাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোলপাড়ায় এখন শোকের মাতম চলছে। তিনি ওই গ্রামের বিশারত মন্ডল ও আয়েশা খাতুনের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ভোলপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মা আয়েশা খাতুন ছেলের ছবি হাতে নিয়ে প্রলাপ করছেন। ছেলের মৃত্যুতে তিনি শোকে মুহ্যমান। নিহত জালাল উদ্দীন ৫ ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজো। স্ত্রী ছাড়াও নিহত জালালের দুই মেয়ে রয়েছে। তার বড় মেয়ে তৃপ্তি ঢাকা ভিকারুন্নেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট মেয়ে তুর্জা একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি শিক্ষার্থী। উল্লেখ্য, সোমবার রাতে ১২টার সময় রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগের তিনতলা একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুপক্ষের গোলাগুলির সময় পরিদর্শক জালালউদ্দিনের মাথায় গুলি লাগে। এসময় তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে আসার পর শোকের মাতম শুরু হয়। গ্রামের লোকজন তাদের বাড়িতে ভিড় করতে থাকে। এদিকে নিহত জালাল উদ্দীনের বৃদ্ধ মা নিহত ছেলে ছবি নিয়ে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন আর বলছেন আমার ছেলের সাথে আর দেখা হবে না। আমাকে না বলে আমার জালাল আমার আগে চলে গেল। নিহত জালাল উদ্দীনের বন্ধু গোলাম রসুল জানান, ছোট বেলায় আমার গোপালপুর হাই স্কুলে পড়তাম। জালাল দারুন মেধাবী ও সামাজিক মানুষ ছিল। চাকরীতে যোগ দেওয়ার পর কৃতিত্বের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করায় স্বীকৃতি স্বরুপ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন। কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান খান জানান, পুলিশ হেডকোয়াটার থেকে আমাকে এখনো অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। তবে নিহত কর্মকর্তার সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো সময় হয়তো ম্যাসেজ আসতে পারে।