শৈলকুপার ত্রীবেনী গ্রামের একটি বাড়িতে উঠোন ও ঘরের মেঝেয় ঘাস!

৫০ হাজার টাকা চাঁদার জন্য গ্রাম ছেড়েছে কৃষক নুরুল

360
gb

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

শৈলকুপার কৃষক নুরুল ইসলামের ছিল গুছালো সংসার। ৫ সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে সুখের সংসার সাজিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখন তিনি নিজের ঘরেই মাথা দিতে পারেন না। ঘরের মেঝে ও উঠানে ঘাস জন্মে গেছে। চাঁদাবাজদের ভয়ে তিনি সপরিবারে গ্রাম ছেড়েছেন। উঠেছেন কুষ্টিয়ার পশ্চিম আবদালপুর গ্রামে। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলার ত্রীবেনি গ্রামের নুরুল ইসলাম ওই গ্রামের শফিরুদ্দীন মন্ডলের ছেলে। নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গ্রামের একটি চক্র ধীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষের উপর নির্যাতন করছে। প্রথমে চাঁদা দাবী ও পরে চাঁদা দিতে না পারলে মারধর করে গ্রাম ছাড়া করা হয়। অনেক সময় নির্যাতিতদের জমি অল্প টাকায় কিনে নেন। এ ভাবে চলছে মাসের পর পর। কোন প্রতিকার নেই। তাদের হাত থেকে হিন্দুরাও রেহায় পাচ্ছে না। ইতিমধ্যে ঋষিপাড়ার জয় গোপাল ও কার্তীক দাসসহ ৩ হিন্দু পরিবার গ্রাম ছেড়েছে। নুরুল ইসলামের কাছেও দাবী করা হয়েছিলো ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু তিনি এই টাকা দিতে না পেরে গত ৪ মাস আগে গ্রাম ছেড়েছেন। তার সন্তান ডালিম, স্বপ্না, রুপা, ছেলে রাকিবুল ও জুনায়েদকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে অসহায় ভাবে দিন কাটাচ্ছেন। নুরুল ইসলামের ভাষ্যমতে ত্রিবেনী গ্রামের আহাজার মন্ডলের ছেলে লাল্টু ও তার ভাই বল্টু, পাতাহারের ছেলে খোকন, মহির মল্লিকের ছেলে কামু, মজিবর মন্ডলের ছেলে টিটু, ইয়াকুব আলীর ছেলে রেজাউল ও শাহাদতের ছেলে তপেলসহ ৮/১০ জন গত ৪ মাস আগে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে পরিবারের উপর বিভিন্ন অত্যাচার চালায়। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি ঘরবাড়ি ফেলে চলে আসেন। আজম মন্ডল নামে আরেক ব্যক্তি তার মতো গ্রাম ছেড়েছেন। এদের অত্যাচারে ভিটা ছেড়ে চলে গেছে ত্রিবেনী গ্রামের নাসির মন্ডল। নাসির মন্ডলের সেই বাড়ীতে বসবাস করছে চাঁদাবাজ গ্রুপের মুল হোতা লাল্টু।  এই চক্রের বিরুদ্ধে এলাকার কেও টু-শব্দ করেন না। করলেই নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। শৈলকুপার ত্রিবেনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল হক খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই চক্রটি শুধু চাঁদাবীবাজী করেই ক্ষ্যান্ত হয় না, মানুষের ঘরে উঠে মেয়েদের সম্ভ্রম নষ্ট করে। চেয়ারম্যান হিসেবে আমি কিছুই করতে পারিনে। কারণ আমি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রাথী হিসেবে চেয়ারম্যান হয়েছি। চেয়ারম্যান আরো জানান, ঋষি সম্প্রদায়ের জয় গোপাল ও কার্তীক দাসের পরিবারকেও এরা গ্রাম ছাড়া করে তাদের জমিজাতি অল্প টাকায় কিনে নিয়েছে। হিন্দু পরিবারের আরেকটি ছেলে তার বৃদ্ধ মাকে রেখে ভারতে পালিয়ে গেছে বলেও চেয়ারম্যন জহুরুল জানান। বিষয়টি নিয়ে শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, এ ধরণের কোন অভিযোগ আমার কাছে কেও দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। তিনি আরো বলেন, এ ধরণের জুলুম পুলিশ কোন ভাবেই বরদাশত করবে না। তিনি বলেন অনেক ঘটনা পুলিশের অজান্তে ঘটে। তিনি নির্যাতিত কৃষককে অভিযোগ নিয়ে থানায় আসার পরামর্শ দেন।