যশোরের মণিরামপুরে আকিজজুট মিলের চাকায় পিষ্ট হয়ে ২ হন নিহত আহত ৩

284
gb

বদরুদ্দিন বাবুল যশোর প্রতিনিধি  ||
আজ মঙ্গলবার বিকালে মণিরামপুর-কালীবাড়ি সড়কের সিলেমপুর বাজারের অদূরে আকিজ জুট মিলের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুইজন নিহত এবং অপর একটি ঘটনায় তিন জন আহত হয়েছেন।। ‘মা চানাচুর এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের এক বিক্রয় প্রতিনিধি ও ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন, উপজেলার পাড়দীয়া গ্রামের রহমত উল্যার ছেলে চানাচুর কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম (৩০) ও আগরহাটি গ্রামের মৃত ওসমান গনির ছেলে ভ্যানচালক সাহেব আলী (৫০)।
পুলিশ লাশ ও আকিজের বাসটি (ঢাকা মেট্রো-স-১৪-০০৬২) তাদের হেফাজতে নিয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী একব্যক্তি জানান, ঘটনার সময় তিনি রাস্তার পাশে আলুক্ষেতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ দেখেন ভ্যানটিকে পেছন থেকে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে আসছে বাসটি। বাসের ধাক্কায় ভ্যানের ওপরে থাকা লোকটি নিচে পড়ে যান। তখন বাসের চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। তখনও ভ্যানের চালক তার ছিটে বসা ছিলেন আর বাস ভ্যানটি ঠেলে নিচ্ছিল। এরপর কয়েক গজ সামনে গেলে চালকও নিচে পড়ে মারা যান।
মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মিয়া জানান, নিহত দুইজন সুন্দলপুর বাজার থেকে ভ্যানে চানাচুর বোঝাই করে নেহালপুর বাজারে বিক্রির জন্য যাচ্ছিলেন। আর আকিজ জুটমিলের বাসটি সাতনল বাজার থেকে শ্রমিকদের নিয়ে নওয়াপাড়ায় যাচ্ছিল। পথে সিলেমপুর বাজারের একটু সামনে গেলে বাসটি ভ্যানের পেছন থেকে ধাক্কা দিলে মারা যান ভ্যানচালকসহ গাড়িতে বসে থাকা অপরজন। নিহত দুইজনের লাশ উদ্ধার পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। বাসের যাত্রীদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, আকিজ জুটমিলের বাসটির ব্রেক ফেল করায় ভ্যানে ধাক্কা দেওয়ার পর চালক বাসটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি।
মণিরামপুর থানার এসআই তোবারক আলী বলেন, ‘লাশ ও বাসটি আমাদের হেফাজতে আছে।’
অপরদিকে একই সড়কের একই স্থানে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে চালকসহ দুই গ্রামপুলিশসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এরা হলেন, মনোহরপুর গ্রামের হাতেম আলী সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৫০) ও ভবানীপুর গ্রামের সত্যরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে জয়দেব বিশ্বাস (৪৫) এবং মোটরসাইকেল চালক খাকুন্দি গ্রামের কওসার আলীর ছেলে মশিয়ার রহমান। আহত তিনজনের মধ্যে গ্রামপুলিশের দুই সদস্য মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর মোটরসাইকেল চালক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।