সুনামগঞ্জের চাঁরাগাঁও সীমান্তে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ১৪লক্ষ টাকার পাথর পাচাঁর

270
gb

জিবিনিউজ24||
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চাঁরাগাঁও সীমান্তে রাজস্ব ফাঁকিদিয়ে ভারত থেকে প্রায় ১ হাজার মে.টন (৮শত ট্রলি) পাথর পাঁচার করার
অভিযোগ উঠেছে। পাচাঁরকৃত পাথরের মূল্য প্রায় ১৪লক্ষ টাকা। আজ২৬.০১.১৮ইং শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই পাথরপাচাঁর করা হয়। চোরাচালানীরা বিজিবির সোর্স পরিচয় দিয়েভারত থেকে অবৈধভাবে মদ,গাঁজা,হেরোইন,ইয়াবা,পাথর,কয়লা,মোটরসাইকেল,গরু ও অস্ত্র পাচাঁর করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবত নামে-বেনামে লক্ষলক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করলেও এব্যাপারে তাদের বিরোদ্ধেআইনগত কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা প্রশাসন।এব্যাপারে চাঁরাগাঁও শুল্কস্টেশনের ব্যবসায়ীরাজানায়,চাঁরাগাঁওবিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয় দিয়ে জঙ্গলবাড়ি গ্রামেরআছালক মিয়ার ছেলে তোতা মিয়া,তার সহযোগী আলী হোসেন ওথানার সোর্স পরিচয় দিয়ে শাকিরুল মিয়া গং প্রতিদিনের মতোআজ ২৬.০১.১৮ই শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে চাঁরাগাঁও বিজিবি
ক্যাম্পের ১১৯৫এর ৫এস পিলার সংলগ্ন চাঁরাগাঁও ছড়া এলাকা দিয়েভারত থেকে ৭৫টি ট্রলি দিয়ে ১হাজার মে.টন (৮শত ট্রলি) বল্ডার পাথরপাচাঁর করে চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের সামনের রাস্তা দিয়েকলাগাঁও গ্রামের সমসার হাওরপাড়ের পাথরঘাটা নামকস্থানে নিয়েমজুত করে ওপেন বিক্রি করে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্টথেকে ১৫০গজ দূরে দুই দেশের লোকজন অবস্থান করার আইনগত নিয়মথাকলেও এখানে বিজিবি ও তাদের সোর্স পরিচয়ধারীচোরাচালানীরা তা মানছেনা। এর আগে গত ২৩.০১.১৮ইং মঙ্গলবার রাত৯টায় লালঘাট গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে চিহ্নিত চোরাচালানীসোনা মিয়া ভারত থেকে অবৈধভারে কয়লা ও মদ পাচাঁর করার পর তারবাড়ি থেকে ৯ বোতল মদ আটক করলেও চোরাচালানী সোনা মিয়াকেগ্রেফতার করেনি এবং তার বিরোদ্ধে মামলা দেয়নি। কারণপাচাঁরকৃত ১ ট্রলি (৩২ফুট) পাথর থেকে চাঁরাগাঁও বিজিবিক্যাম্পের নামে ৭০টাকা,বীরেন্দ্রনগর কোম্পানী কমান্ডারের নামে৩০টাকা,তাহিরপুর থানার নামে ৫০টাকা,ইপি মেম্বার হাসান আলীরনামে ৫০টাকা,ঢাকা প্রধান কার্যালয়,বিভাগ, জেলা ও উপজেলায়কর্মরত সাংবাদিকদের নাম ভাংগিয়ে আব্দুর রাজ্জাক নিচ্ছে৫০টাকা,চাঁদা উত্তোলনকারী সোর্সদের নামে ৩০টাকা,ডিবিপুলিশের নামে ২০টাকা ও সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের অধিনায়কেরনামে ৫০টাকাসহ মোট ৩৫০টাকা হারে ৮শত ট্রলি থেকে সর্বমোট২লক্ষ ৮০হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে বলে জানাগেছে। সেইসাথে ১ বস্তা কয়লা পাচাঁরের জন্য ১৫০টাকা,বিভিন্ন প্রকারমাদকদ্রব্য থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে চাঁদা নেওয়াসহ ১টিগরু থেকে ৫হাজার টাকা,১টি মোটর সাইকেল থেকে ১০হাজারটাকা উত্তোলন করা হয়। আর এই চাঁদার টাকা উত্তোলন করে ক্যাম্পের
সোর্স পরিচয়ধারী তোতা মিয়া ও শাকিরুল মিয়া। এব্যাপারেক্যাম্পের সোর্স আলী হোসেন বলেন,হাসান আলী মেম্বার ও তোতামিয়া আমাকে বলেছে কয়টা ট্রলি দিয়ে পাথর পাছ হচ্ছে তারহিসাব রাখতে,আমি শুধু খাতায় হিসাব লিখে রেখেছি,এর বেশিকিছু আমি বলতে পারবনা। বিজিবির সোর্স তোতা মিয়াবলেন,আমি যা করেছি বিজিবির নিদেশে করেছি,আপনার কিছুজানার থাকলে ক্যাম্প থেকে জানতে পারেন,এই ব্যাপারের আমার কিছুবলার নাই। চাঁরাগাঁও ও কলাগাঁও গ্রামের ব্যবসায়ী সাজুলহোসেন,তারা মিয়া,জীবন রহমান,ফিরোজ মিয়া,রবিন মিয়া,করিমউদ্দিনসহ আরো অনেকেই বলেন,সরকারের লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকিদিয়ে চোরাচালানী তোতা মিয়া,আব্দুর রাজ্জাক ও শাকিরুল মিয়া গংগত ২মাসে চাঁরাগাঁও ও কলাগাঁও এর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়েঅবৈধভাবে প্রায় ১কোটি টাকার পাথর ও কয়লাসহ বিভিন্ন প্রকারমাদকদ্রব্য পাচাঁর করে বিজিবি,পুলিশ ও সাংবাদিকের নামে লক্ষলক্ষটাকা চাঁদাবাজি করে আঙ্গল ফুলে কলাগাছ হলেও তাদের বিরোধেআজ পর্যন্ত আইনগত কোন পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। এব্যাপারেচাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার মোনায়েম বলেন,আমার পরিচয়জানার দরকার নেই,আপনার যা বলার তাড়াতাড়ি বলেন,আমি এখন ব্যস্তআছি। এই কথা বলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন,এরপর একাধিকবার কল করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রাজস্ব ফাঁকি দিয়েপাথর পাচাঁরের ব্যাপারে জানতে বীরেন্দ্রনগর বিজিবি ক্যাম্পেরকোম্পানী কমান্ডার সুবেদার হাবিব এর সরকারী মোবাইল নাম্বারেরবারবার কল করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।