Bangla Newspaper

সৌন্দর্যের অনন্য স্থাপনা আবুধাবীর লুভার মিউজিয়াম

330

  জিবিনিউজ24 ডেস্ক || স্বল্প সময়ে বিশ্বের নানা ঐতিহ্য ও স্মৃতিগুলো দেখার এক অনন্য মিউজিয়াম সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর সাদিয়াত আইল্যান্ডে নির্মিত লুভার আবুধাবী। ফ্রান্সের (Louvre) লুভার মিউজিয়ামের আদলে নির্মিত এ লুভার আবুধাবী ২০০৭ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে আবুধাবীর দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে নির্মাণ করা হয়। গত বছরের ৮ নভেম্বর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মেকরন এই মিউজিয়ামটি উদ্বোধন করেন। এতে ২৩ গ্যালারির মাঝে ৬২০টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। যার মাঝে ফুটে উঠেছে বিশ্বের নানা প্রান্তের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বাদ পড়েনি ভারত বর্ষের নানা শাসকের চিত্র কর্মও।

অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের সঙ্গে আমাদের দেশীয় প্রবাসীরা ছুটে আসছেন এ মিউজিয়ামটি দেখতে।

১৭৯৩ সালে নির্মিত প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামের আদলে বর্তমান বিশ্বের নন্দিত আর্কিটেক Jean Nouvel-এর হাতে আবুধাবী ট্যুরিস্ট অ্যান্ড কালসার অথরিটি কর্তৃক নির্মিত লুভার মিউজিয়াম। ২৪ হাজার মিটারে আয়তন জুড়ে ৮ হাজার মিটারের গ্যালারির পরতে পরতে শোভা পাচ্ছে শিল্পীর নৈপু‌ণ্য হাতের ছোয়া। এ মিউজিয়ামের ছাদের ১১০ মিটারের গুম্বুজটি প্রায় ৭,৫০০ টন যা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের সমান। এতে ৭,৮৫০টি তারা রয়েছে। যা দিয়ে ওপর থেকে ভিতরে আলোর ঝলক আসে। আরব সাগরের তটে আবুধাবী শহরের পাশেই এ মিউজিয়ামের ভেতর গেলে মনে হবে রাতের আকাশে চাঁদের আলোর বিকিরণ আর জ্যোসনার মেলা। এক পাশে মরুভুমি অন্য পাশে আরব সাগর সত্যি এক অনন্য সুন্দর স্হাপনা। এ সুন্দর স্থাপনার ২৩টি বৃহৎ গ্যালারিতে ঘুরে দেখতে টিকেটের মূল্য রাখা হয়েছে ৬০ দিরহাম বা প্রায় ১৩৫০ টাকা।

এ মিউজিয়ামটির নির্মাল শৈলী দেশ বিদেশের পযর্টককে মোহিত করেছে। এসব পযর্টক এখানে এসে একসঙ্গে চিত্রকর্ম দেখার পাশাপাশি শহর, নগর, সাগর আর মরুভুমি দেখতে পারবেন। যা সহজে দেখা মেলা কষ্টকর। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পযর্টকদের মাঝে বাংলাদেশি পযর্টকদের সংখ্যাও কম নয়। এ সুন্দর মিউজিয়ামটি ঘুরে গেলেন গেল মাসে আমিরাত সফরে আসা বাংলাদেশের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি ও ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ডা. মোহা্ম্মদ ইমরানসহ প্রবাসী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একসঙ্গে এ মিউজিয়ামটি ঘুরে গেলেন। অন্যান্যদের সঙ্গে তারাও মোহিত হলেন।

ফ্রান্স থেকে আসা জোভার্ট ফ্রান্সিসের মতে, এটা আমার কাছে সৌন্দর্যের অন্যরকম আধার মনে হয়। যা একজন পর্যটক হিসেবে আমি মনে করি আশ্চার্য একটি মিউজিয়াম। এখানে সারা দিন ঘুরে দেখলেও শেষ হবার নয়। সত্যি এটা অজানাকে জানার একটি নতুন ক্ষেত্র। আমাকে এটা বিমোহিত করেছে।

যাদুঘর, আর্ট, কালচার, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সমারোহ একই সঙ্গে একই জায়গায় খুবই কম দেখা মিলবে বিশ্বের মাঝে। এটার নির্মাণ শৈলী ও সংগ্রহে শালার দিক থেকে এ মিউজিয়ামটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অতুলনীয় মনে হয় দর্শনার্থীদের কাছে।

ব্রাজিলের পযর্টক খ্রিষ্ট্রেনা লুভিয়া মিউজিয়ামটি ঘুরে তার প্রতিক্রিয়া জানান, আমি লুভার আবুধাবী মিউজিয়ামটা দেখে অনেক ইম্প্রেস হয়েছি। এর তরে তরে সাজানো চিত্রগুলো অনেক সুন্দর। এটার কালচার, সাহিত্য, ইতিহাস মানুষকে পরিপুর্ণতা দিবে। আমি এখানে এসে অনেক খুশি ও আনন্দিত। আমি এখানে এসে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

শহরের কর্ম জীবনের একগেয়েমী থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে আর ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানতে আবুধাবী শহরে পাশেই সাদিয়াত আইল্যান্ডে অবস্থিত এ মিউজিয়ামটি দেশ-বিদেশের প্রবাসীরা বার বার ঘুরে আসতে চান।

Comments
Loading...