সীমানা নিয়ে বিরোধ : বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর লুটপাট, আহত ৮

213
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর মধ্যে সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে অন্তত নয়টি বসতঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পিটিয়ে নারীসহ আটজনকে আহত করা হয়।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের দড়্গিন টুমচর গ্রামে শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) ভোরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে চরম আতংকিত হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ ঘটনায় উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) হোমায়রা বেগম ও  জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আ স ম মাহতাব উদ্দিন বৈঠক করেন। এ সময় বিষয়টি সুরাহাকল্পে তাঁরা নোয়াখালী প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।

এর আগে বিকেলে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) পংকজ কুমার দে, জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ও রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ড়্গতিগ্রস্থ ব্যক্তি, এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্থানীয় লোকজন জানায়, নোয়াখালীর হাতিয়ার সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী ও তার অনুসারীরা প্রায়ই রামগতির অংশে এসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এ নিয়ে অব্যাহত হামলা-সংঘর্ষ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি গত এক যুগে অন্তত ১৫টি খুনাখুনির ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানায়, উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর গ্রামে ভোরে হাতিয়ার একদল সন্ত্রাসী বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়। অভিযোগ উঠেছে, তাদের (হামলাকারী) সঙ্গে বিপুলসংখ্যক কোস্টগার্ডও অংশ নেয়। তারা শেখ ফরিদ, সোলায়মান, নুর জামাল, বাবর শিকদার, মো. শাহজাহান, নেছার মুন্সি, জসিম উদ্দিন, মিলন ও নিজাম উদ্দিনের বসতঘরে ভাঙচুর করে। এসময় আসবাবপত্রসহ মালামাল তছনছ করা হয়। পরে হামলাকারীরা কয়েকটি গরু নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে পিটিয়ে নারীসহ আটজনকে আহত করা হয়। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা নিচ্ছেন।

চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাওহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, বহিরাগত হাতিয়ার সন্ত্রাসীরা হঠাৎ কোস্টগার্ডকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের অন্তত ১০টি বাড়িতে হামলা ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা ৫টি গরু ও তিনটি দোকান থেকে মালামাল নিয়ে গেছে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে রামগতি কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার সাঈদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি কেউ আমাকে জানায়নি। আমি এখানে আজকেই যোগদান করেছি। বিসত্মারিত খোঁজ-খবর নিলেই বলা যাবে।

এ ব্যাপারে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) পংকজ কুমার দে বলেন, ঘটনাস্থল গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সেখানে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য নিরূপণ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এ ছাড়া হামলার ঘটনার সময় কোস্টগার্ড সেখানে উপস্থিত ছিল বলে স্থানীয়রা আমাকে জানিয়েছেন।