Bangla Newspaper

পরকীয়ার জেরে সৈনিক হত্যায় স্ত্রীর ফাঁসির রায়

26

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. মহসিন হত্যা মামলায় স্ত্রী সালেহা খাতুন শিউলিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সরদার এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সালেহা খাতুন শিউলী চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলবের আইঠাদি মাথাভাঙ্গার সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের মেয়ে। বর্তমানে তিনি পলাতক।

আদালত সূত্র জানায়, মো. মহসিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী শিউলী, দুই ছেলে প্রান্ত ও প্রিয়ন্তকে নিয়ে রাজধানীর পল্লবীতে বসবাস করতেন। ২০১২ সালের ২৬ অক্টোবর ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় মহসিনকে। নিহতের ভাই মো. মজনু মিয়া বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তে জানা যায়, শিউলী পরকীয়ায় লিপ্ত হলে স্বামীর সাথে বিরোধ তৈরী হয়। এরই জেরে প্রেমিক শরীফ চৌধুরী আপন, সুরুজ মিয়াসহ ৫/৭ জনকে নিয়ে শিউলী স্বামীকে হত্যা করেন। ঘটনার পর পুলিশ শিউলীকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এরপর জামিন নিয়ে পালিয়ে যান। তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই বিপ্লব কুমার শীল ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি একমাত্র আসামি শিউলীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

গতকাল রায়ে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়। আসামি গ্রেপ্তার অথবা আত্মসমর্পন করার পর হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে এ রায় কার্যকর হবে। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি আবদুল কাদের পাটোয়ারী। পলাতক আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এ এইচ এম রাশেদ।

রায় ঘোষণার আগে বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘সমাজে বর্তমানে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে স্বামী তার স্ত্রীকে অথবা স্ত্রী স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের মামলায় আসামির উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে এরকম নির্মম ও নিষ্ঠুর হত্যার অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবেনা। এ মামলার আসামি যে অপরাধ করেছে তা খুবই মর্মান্তিক, নারকীয় ও ভয়ংকর। তার অপরাধ বর্বরতা মানব সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সভ্য সমাজে মানুষের কাছে এ অপরাধ কোনোভাবেই সহনীয় ও গ্রহণযোগ্য নয়। ’

Comments
Loading...