Bangla Newspaper

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন বিশ্ববাসীর সম্পদ এটি শুধু বাঙ্গালীদের নয় সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্যে গৌরবের– মেয়র জন বিগস

74

মতিয়ার চৌধুরী ||

বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন বিশ্ববাসীর সম্পদ, এটি শুধু বাঙ্গালীদের নয় সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্যে গৌরবের, আমরা ব্রিটিশরাও এনিয়ে গর্বিত। আর একারনেই অমূল্য এই ভাষনকে ইউনেস্ক কর্তৃক বিশ্ব হ্যারিটেজের অন্তভর্‚ক্ত করা হয়েছে। বিশ্ব বাসীর সম্পদ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে অর্মল্য ভাষনটিকে বিভিন্ন ভাষায় প্রচার করা উচিত। এমন্তব্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগসের।

গতকাল সন্ধ্যায় ইষ্টলন্ডনের অট্রিম ব্যানকুইটিং হলে যুক্তরাজ্য নাগরিক কমিটি আয়োজিত আনন্দ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র জন বিগস এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাঙ্গালীদের গর্ব করা উচিত। প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা নইমুদ্দিন রিয়াজ ও টিভি উপস্থাপিকা উর্মি মাজহারের যৌথ স ালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামরুল ইসলাম বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী আজ গবেষনা হচ্ছে, ইউনেস্কো এই ভাষনটিকে হ্যারিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক কুলাংগার ও স্বাধীনতা বিরোধী আজও এই সত্যকে স্বীকার করতে চায়না। ৭৫সালে জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যার পর ইতিহাসের পাতা থেকে তার নাম মুছে ফেলতে চেষ্টা করা হয়েছে। ইচ্চেকৃত ভাবে ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সত্য ইতিহাস তুলে ধরা সহ নানামুখি পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। জাতির জনকের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে তার কন্যার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। একসময় যে হেনরী ক্যাসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুরি আখ্যায়িত করেছিল এই আমেরিকাই আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে প্রশংসা করছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারনে। অগ্রণী রিসার্স ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাবেক কাউন্সিলার নুরুদ্দিন আহমদ বলেন আমরা ২০১৪ সাল থেকে ৭ইমার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষনার দাবী জানিয়ে আসছি, বিভিন্ন সময় এদাবীর জন্যে বাংলাদেশ এবং ঢাকাতে সেমিনার করেছি, এদাবীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী সহ তিনশ জন এমপি বরাবরে স্মারক লিপি দিয়েছি ৪মার্চ ২০১৪ সালে। তিনি অনুষ্টানে সেই স্মারক লিপির কপি আবারও খাদ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে ৭ই মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষনার দাবী জানান। অনুষ্টানে আরো বক্তব্য রাখেন ফয়েজুর রহমান লস্কর, আনসার আহমেদ উল্লাহ, হরমুজ আলী, মারুফ চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম মধূ, সেলিম খান, জোবায়ের আহমদ, জামাল খান, সারব আলী, কাওছার চৌধুরী, আবদুল আহাদ চৌধুরী, হুসনেয়ারা মতিন, আঞ্জুমান য়ারা অঞ্জু, শাহ শামীম আহমদ, খসরুজ্জামান খসরু সহ আরো অনেকে। অনুষ্টানের শুরুতে জাতির জনক সহ ১৫ই আগষ্টের সকল শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর পর সকলে একসঙ্গে পরিবেশন করেন জাতীয় সঙ্গীত, বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাজানো হয় ৭ই মার্চের ভাষন, এর পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্টান ও কবিতা আবৃত্তি, আবৃত্তিতে অংশ নেন নজরুল ইসলাম অকিব, স্মৃতি আজাদ, সাজিয়া ¯িœগ্ধা, মুসলিমা শামস বন্নি, সঙ্গীত পরিবেশন করেন গৌরী চৌধুরী রাজিয়া রহমান সহ বিলেতের শিল্পরা।

Comments
Loading...