Bangla Newspaper

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ভূয়া মাজার ও উরস কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

113

জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর  ||

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রেলস্টেশন সংলগ্ন গড়ে উঠেছে মাজার নামে একটি মাদকের আখড়া। ভুয়া এ মাজারে চলছে বাৎসরিক উরসের আয়োজন, স্থানীয়দের প্রতিহতের ঘোষণায়- ভুয়া মাজারের খাদেমরা অস্ত্র হাতে মহড়া দিচ্ছে।যে কোন সময়ে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ । বোয়ালমারীর পৌর সদরে কতিপয় মাদক সেবনকারী ও অসাধু মাদক ব্যবসায়ী, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসন কে হাত করে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই ভূয়া মাজারের আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের আসর ।

রেলের জায়গা দখল করে ভুয়া মাজার প্রতিষ্ঠাকারী মাদকচক্র, সম্প্রতি উরস করার ঘোষণা দিয়ে আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে ৪ দিনব্যাপী বাউল গান, নাটক ও মেলার আয়োজন করেছে ।মাজারের এক খাদেম জানান – বাৎসরিক উরস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী একজন রাজনীতিবিদ । প্রথমতঃ ভুয়া মাজারটি গাঁজা সেবনের আখড়া এর পর বাৎসরিক উরস করার নামে মসজিদের পাশে নাচ গানের আসর বসানোর পরিকল্পনা , এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সচেতন যুব সমাজ এই ধরণের ভন্ডামি প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে । এতে মাদকচক্রকারীদের পৃষ্ঠাপোষক ও স্থানীয় যুব সমাজের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা । ভুয়া মাজারের খাদেমদের দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে । সচেতন মহলের কয়েক জন মনে করেন , খাদেমদের দেশীয় অস্ত্র হাতে ঘুরাফেরা ও উস্কানি মূলক কথা বার্তায় স্থানীয় যুব সমাজের সাথে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। সরজমিনে বোয়ালমারী রেল স্টেশন ও আশপাশে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়,মূলত রেলের জমি ভোগ দখলের নিমিত্তে পান্নু দারোগা নামে পৌরসদরের ছোলনা গ্রামের এক পুলিশ অফিসার স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় গড়ে তোলেন মাজার নামী এই মাদকের আখাড়া । তিনি মাঝখানে এক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সাসপেন্ড হয়েছিলেন।এখন আবার স্বপদে ফিরে গেলেও এই মাজার চলে তারই ইশারায়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে না আছে কোন পীর আওলিয়ার সমাধি, আর না কোন পীর দরবেশের দরগা! কতিপয় গাঁজাখোর, ভন্ড বাউল সাধকদের এনে ভুয়া এই মাজারে বাউল সাধনার নামে প্রতিদিনই চলে গাঁজার আসর । মাঝেমধ্যেই চলে জুয়া ও দেহ ব্যবসাও । স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও অদৃশ্য শক্তির জোরে বন্ধ করা যায়নি এই ভুয়া মাজারের অসামাজিক কার্যকলাপ । রেল স্টেশনের চায়ের দোকানে কথা হয় মিরাজ সেখের সাথে , তিনি জানান- ভুয়া এ মাজার পরিচালনা করেন পুলিশ অফিসার পান্নু সিকদার ও স্বঘোষিত বাংলাদেশ বাউল পরিষদের সভাপতি বাউল কবি শাহাদাত ! বাউল শাহাদাত নিজেকে আধ্যাত্মিক কবি ও বাউল সম্রাট পরিচয় দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ঐ নেতার ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন । বছর দুই আগে সার্কাস এনে পরিচালনা কমিটির সদস্য সংগ্রহের নামে প্রতি সদস্যের কাছ থেকে একহাজার টাকা করে নিয়ে প্রায় চারলাখ টাকা আত্মসাত করে এই শাহাদত ।তিনি প্রভাবশালী একজন রাজনীতিবিদের সুনজরে থাকায় মূলত মাদকের অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন এই ভুয়া মাজারকে । এ ব্যাপারে পুলিশের ঐ কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায় নি । শাহাদাত বাউল সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনে কথা বলতে রাজি হননি । যে কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি । ভুয়া এ মাজারটি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিকট মাদকের আখড়া বলেই পরিচিত লাভ করেছে ইতিমধ্যে।কেউ আবার বললেন- এটা গাঁজা বাবা’র দরবার । মাদক সেবনের অভয়ারণ্য ভুয়া এই মাজারে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছর ৩০ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শন করে বের করে দেন মাজারের খাদেম বলে পরিচিত এক সাধুকে । কয়েক দিন যেতে না যেতেই ছোলনা কাসিদপাড়ার জুয়ার সম্রাট নামে খ্যাত আতিয়ার জুয়াড়ীকে ভন্ড সাধক বানিয়ে আবার শুরু হয় মাদক ও জুয়ার আসর।স্থানীয় যুব সমাজের এই সব অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিহতের ঘোষণার পর থেকেই জুয়াড়ী আতিয়ার সহ ভুয়া মাজারের খাদেমগণ প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।হুমকি দিচ্ছে মাজারের কাছে এলে রক্তের বন্যা বইয়ে দিবার । স্থানীয়দের প্রশ্ন মাদকসেবী, ভন্ড বাউল, ,জুয়ারীরা- প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ভাবে অস্ত্র হাতে উদ্ধত আচরণ প্রকাশের সাহস পায় কোথায় ? এদের খুঁটির জোর কোথায় ?

Comments
Loading...