Bangla Newspaper

মৌলভীবাজারে ইউপি চেয়ারম্যানের সীল-প্যাড নকল করে ধরা পড়লো মেহের আলী

18

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুখ্যাত মামলাবাজ মেহের আলী উরফে মেহের উল্লাহ এবার সদর উপজেলার ১১ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ এর স্বাক্ষরযুক্ত সীল ও প্যাড নকল করেছে। ভয়ংকর এই জালিয়াতির অপরাধে  রাতভর আটক থেকে অবশেষে তার ছোট ভাই আরাফাত আলীর জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) রাত দশটার দিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলা মোস্তাফাপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে। এ নিয়ে রাতভর তোলপার শুরু হয় পুরো গ্রামজুরে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসলে নড়েচড়ে বসেন সবাই।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মেহের আলী দীর্ঘদিন যাবত এধরণের জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে অনেক সহজ সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। মেহের আলী তার প্রতিবেশী মুহিবুর রহমান এর জাতীয় পরিচয় পত্র ও নিজ ভুমির কাগজপত্র জাল করে বিক্রির পায়তারা চালাচ্ছিল, বিষয়টি ধরা পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে। পরে ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ তার নিজ বাড়িকে ডেকে নিয়ে আটক করে মেহের আলীর স্বজনদের খবর দেন। রাত সাড়ে দশটার দিকে গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বিদের উপস্থিতি জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার মেহের আলী। আগামীতে এরকম কাজ আর না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইলে তার ভাইয়ের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ১১ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ জানান, সে আমার ইউনিয়নের প্যাড ও আমার স্বাক্ষরযুক্ত সীল নকল করেছে। ভবিষ্যৎে এধরণের প্রতারণা না করার শর্তে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন কেউ এবিষয়ে অভিযোগ দিলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

অপরদিকে মেহের আলীর নানা অপকর্ম নিয়ে গত ২২ মে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয় । এনিয়ে গোটা এলাকায় তোলপার শুরু হলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মেহের আলী । এর প্রেক্ষিতে মেহের আলী কয়েকজন সাংবাদিকদের সাথে সরাসরি যোযোগ করে কান্নকাটি করে এই প্রতিবেদনকে মিথ্যা দাবী করে অনলাইনে প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনোরুধ করেন।

এরপর মৌলভীবাজারের একটি অনলাইন নিউজ প্রোর্টালে উপরোক্ত প্রদিবেদনের প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয় নিয়ে কয়েকদফা তারিখ করে টালবাহানা করে । এসব কারণে সাংবাদিকদের সাথে প্রতারণা করে মেহের আলী । শুধু তাই নয়, সত্য ও বস্তুনিষ্ট অনুসন্ধানী সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে মেহের আলী ঐ প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য এখন মরিয়া হয়ে উঠছে বলে জানা যায়। এদিকে দিন যত গড়াচ্ছে মেহের আলীর অপরাধের মাত্রা তত বাড়ছে বলেও জানা যায়।

উল্লেখ্য, দুই যুগেরও বেশি সময় যাবত তার অত্যাচার সহ্য করছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১১ নং
মোস্তফাপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। জমিদখল, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও প্রকাশ্যে হুমকির কারনে এত দিন ভয়ে কেউ প্রতিবাদ না করলেও এখন তার অপকর্মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদি হয়ে উঠছেন।

মামলাবাজ মেহের আলীর একমাত্র পেশা হল জায়গা জমির দলীল জাল করে তার নিজ নামে চালিয়ে যাওয়া, এলাকার বিভিন্ন সম্মানী ব্যক্তিদের নামে ভুয়া মিথ্যা হয়রানী মূলক মামলা করে জেলে পাঠানো, চাঁদাবাজি ইত্যাদি ।

মেহের আলী বিভিন্ন ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার ক্ষেত্রে বেছে নেয় নারীদের, যাদের মোটা অংকের টাকার বিনিমিয়ে জাল কাবিন নামা, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও পরিচয় গোপন রেখে আদালতে মিথ্যা মামলা করে থাকে। বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও এখন ধীরে ধীরে প্রকাশ হতে শুরু করে। যেসব নারীদের দিয়ে মামলা করাতো মেহের আলী, এসব নারীরা এখন অকপটে টাকার লোভে মিথ্যা মামলা করেছে বলে এলাকার বিভিন্ন মহলের কাছে স্বীকার করে নিয়েছে। আর এসব কারনেই যারা ভুক্তভুগি তারা এখন ফুশে উঠছেন মেহের আলীর এমন কুকর্মের বিরুদ্ধে। মেহের আলীর রাজনৈতিক কোন পরিচয় না থাকলেও বিগত চারদলীয় জোট সরকারের শাষনামলে সাবেক প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ভাই মরহুম মানি মিয়ার ছত্রছায়ায় মূলত আলোচনায় আসে তৎকালিন সময় থেকে ।

রাজনৈতিক সুবিধাবাদী মেহের আলী যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসুক না কেন সব অবস্থায়ই সে দাপুটের সাথে চলে তার সব অপকর্ম ।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করে গ্রামের ভুক্তভুগি অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে তার নিজ গ্রামের যেখানেই দু পক্ষের মধ্যে জায়গা জমি বা ব্যাক্তিগত বিরুধ হচ্ছে সেখানেই মেহের আলী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যে কোন পক্ষের হয়ে অর্থের লোভ দেখিয়ে মামলা করিয়ে ইন্ধন দিচ্ছে,ফলে এসব কারনে কখনো কখনো দু পক্ষের মধ্যে মারামারি থেকে শুরু করে খুন খারাবির মত ঘটনাও অতীতে ঘটেছে ।

Comments
Loading...