Bangla Newspaper

বৃটেনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী মালিকানাধীন রেষ্টুরেন্ট-টেকওয়ের সংখ্যা ১২ হাজার না ৬০ হাজার সঠিক কোনটি ?

0 152

মতিয়ার চৌধুরী ||

বর্তমানে বৃটেনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী মালিকানাধীন রেষ্টুরেন্ট এবং টেকওয়ের সংখ্যা কত? আর কি পরিমান লোক এই সেক্টরে কর্মরত রয়েছে এর সঠিক তথ্য জানার আগ্রহ অনেকের। আসলেই কি এসংখা ১২,০০০ হাজার না তার চেয়ে বেশী?

বৃটেনে বসবাসরত ব্রিটিশ বাঙ্গালীদের কেউ বলছেন ১২হাজার, কেউ বলছেন ১৯ হাজার আর কেউবা বলছেন ১৫ হাজার ,আর কারো কারো মতে এ সংখ্যা ৭,০০০ হাজার। এনিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে অনেকের মাঝে। আমার হিসেব মতে এসংখ্যা ৬০,০০০ হাজার।
সমগ্র বৃটেন জুড়ে ক্যাটারিং সেক্টরে প্রতিনিধিত্ব কারী সংগঠন রয়েছে বেশ কয়েকটি। এর মধ্যে ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্যাটারারর্স এসোসিয়েশন (বিসিএ),বাংলাদেশী রেষ্টুরেটারর্স, ব্রিটিশ বালাদেশী ক্যাটারারর্স এসোসিয়েশন (বিবিসিএ) এবং এফওবিসি। প্রতিবছরই কয়েকটি সংগঠন বৃটেনে কারিশিল্পে অবদান রাখছেন এমন প্রতিষ্টান এবং শেফদের এওয়ার্ড প্রদান করে, আর এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় মন মাতানো অনুষ্টানের, এসব অনুষ্টানে ব্রিটিশ মন্ত্রী এমপি সহ বাংলাদেশ এবং ভারত থেকে অতিথিরা অংশ নেন। অনুষ্টানে আমন্ত্রন জানানো হয় ম্যালটিক্যালচারাল সোসাইটির বিশিষ্ট জনদের।

প্রতিটি এওয়ার্ড অনুষ্টানেই একই কথা সকলের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়, সবাই বলেন বার হাজার রেষ্টুরেন্ট এবং টেকওয়ের প্রতিনিধিত্ব করছে সংগঠনটি, এওয়ার্ড প্রদান কারীরাও একই কথা বলেন। এই সেক্টরে কর্মরত রয়েছে একশ হাজার মানুষ, এই সেক্টরটি হচ্ছে বৃটেনের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। এসব সংগঠন এবং এওয়ার্ড প্রদান কারীদের ভাষ্য মতে ব্রিটিশ বাংলাদেশী মালিকানীন রেষ্টুরেন্ট এবং টেকওয়ে মিলিয়ে এককথায় ক্যাটারিং ইন্ডাষ্ট্র্রি ব্রিটিশ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে বছরে ২.৫ বিলিয়ন কারো কারো মতে ৪.৫ বিলিয়ন পাউন্ড। সকলেই কি্  এই একই বার হাজার রেষ্টুরেন্ট এবং টেকওয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন, না পৃথক পৃথক বার হাজার তা কারো কাছেই পরিস্কার নয়।

ক্যাটারিং সংগঠন এবং এওয়ার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্টান গুলোর ভাষ্য পরিস্কার না হওয়াতে অনেকেই বিভ্রান্তিতে রয়েছেন।

সংগঠন গুলো যদি একটি সঠিক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে নিজ নিজ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কত তা প্রকাশ করেন তাহলে অনেকেই উপকৃত হবেন। যে সব প্রতিষ্টানের পক্ষ থেকে প্রতি বছর ক্যাটারিং সেক্টরে এওয়ার্ড প্রদান করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো এনাম আলী এমবিই প্রবর্তিত ব্রিটশ কারি এওয়ার্ড, বিসিএ কারি এওয়ার্ড, কারিলাইফ ম্যাগাজিন আয়োজিত শেফ এওয়ার্ড, ব্রিটিশ বাংলাদেশী বিজনেন্স, টেকওয়ে এওয়ার্ড, এশিয়ান কারি এওয়ার্ড উল্লেখযোগ্য। আমার মতো অনেকেই এবিষয়টি নিয়ে আছেন বিভ্রান্তিতে।

আমি এসংখ্যা ৬০ হাজার বলার কারন হলো, বিসিএ‘র সেক্রেটারী জেনারেল অলি খানের মতে বৃটেনে ব্রিটিশ বাংলাদেশী মালিকানাধীন রেষ্টুরেন্ট টেকওয়ের সংখ্যা ১২ হাজার তাদের মতে তারা এনিয়ে একবার জরিপ চালিয়ে ছিলেন ২০০০৮ সালে, এছাড়া বিবিসিএ’র প্রেসিডেন্ট ইয়াফর আলীর মতে ২০০০৬ সালে বিসিএ’র প্রয়াত প্রেসিডেন্ট  এম এ রহিম একটি অনুমান ভিত্তিক তথ্য দিয়েছিলেন যে বৃটেনে বাংলাদেশী মালিকানাধীন রেষ্টুরেন্ট এবং টেকওয়ের সংখ্যা ১২ হাজারের কমবেশী হতে পারে এর পর থেকে সকলেই বলে আসছেন ১২ হাজার  আর এখন বাজারে এটিই প্রচলিত। আবার এওয়ার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্টান গুলোর দাবী এসংখ্যা ১২ হাজার।

প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে দক্ষ শেফ এবং ষ্টাফের অভাবে প্রতিদিনই বন্ধ হচ্ছে অসংখ্য রেষ্টুরেন্ট, আর কেউ দাবী করছেন প্রতি মাসে বাড়ছে এসংখ্যা, আমি বিগত ২২ বছর যাবত একই কথা শুনে আসছি এসংখ্যা ১২ হাজার। বন্ধ হলে বা কোন প্রতিষ্টান নতুন করে খোলা হলেও সংখ্যার কোন কমবেশী হচ্ছেনা। সব সময়ই থাকছে একই অবস্থানে বার হাজারে।  এই বার হাজার একত্রে না পৃথক পৃথক তা কারো কাছে পরিস্কার নয়, আর অস্পষ্টতার কারনেই  বিভ্রান্তি।
আমি যে ৬০ হাজারের হিসেব তুলে ধরছি এটি আমার নিজস্ব মতামত নয় সংগঠন গুলোর ভাষ্যমতে।  আমার ৬০ হাজার বলার কারন হলো বিট্রিশ কারী এওয়ার্ড বলছে ১২ হাজার, বিসিএ ১২ হাজার, বিবিসিসিএ ১২ হাজার, কারীলাইফ ম্যাগাজিন ১২ হাজার, এফওবিসি ১২ হাজার, সব যোগ করলে ফল দাড়ায় ৬০ হাজার। সংগঠন গুলোর প্রতি আমাদের আবেদন তারা উদ্যোগী হয়ে একটি সঠিক পরিসংখান তৈরী করবেন।  সেই সাথে নিজ নিজ সংগঠনের সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করবেন। তা হলে জানা যাবে সঠিক তথ্য, সকলেইকি সকলের যৌথ ভাবে  ১২হাজার না পৃথক পৃথক বার হাজারের দাবী করছেন।  যদি পৃথক পৃথক ১২ হাজার হয় তালে এর যোগফল দাড়ায় ৬০ হাজার।

Comments
Loading...