Bangla Newspaper

তারুণ্যের বাতিঘর মানবতার শীর্ষমুখ শেখ হাসিনা শুভ জন্মদিন

0 129

এম আরমান খান জয়,গোপালগঞ্জ  ||

মানুষ একবার জন্মে, একবারই মরে। জীবন-মৃত্যুর মাঝখানের সময়টায় অধিকাংশ মানুষ নিজ ও নিজ পরিবার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। কিছু মানুষ থাকে ব্যতিক্রম। এই ব্যতিক্রমগণ সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, ধর্মের জন্য, মানবতার জন্য, ন্যায়ের জন্য তথা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য কল্যানকর কিছু মহৎ কর্ম করে যান । তাঁরা স্বমহিমায় ইতিহাসের বিষয়বস্তু হন, বিজ্ঞান, দর্শন, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু হয়ে ওঠেন। শতাব্দীর মহাকাল পেরিয়েও তারা বেঁচে থাকেন । কর্ম তাদের অমরত্ব দান করেন। দেহ পরপারে যাবার পরও মানুষের হৃদয়ের গহীনে শ্রদ্ধায়, ভক্তিতে তাঁরা বেঁচে থাকেন শতাব্দীর পর শতাব্দী । বিশ্বময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব মহৎ মানুষদের জীবন, কর্ম, চিন্তা, বাণী, লেখনী নিয়ে যুগ যুগ ধরে গবেষকগণ গবেষণা করেন। অভিসন্দর্ভ রচনা করে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন । এই তিন যুগ তিনি দেশের প্রধানতম রাজনৈতিক দলের সভাপতি। এই তিন যুগের মধ্যে মাত্র এক যূগ এক বছর তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। সরকার যায়, সরকার আসে, রাষ্টপতি-প্রধানমন্ত্রী যায়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী আসে। এটিই সতত রীতি। কিন্তু শেখ হাসিনা বারবার আসেন না। তিনি একজনই এবং তাঁর তুলনা কেবলই তিনি। খুব কম রাষ্ট্রনায়কের পক্ষে তাঁর মত উন্নয়ন ও কল্যান করা সম্ভব হয়েছে এবং একটি বিশ্ব অস্থিতিশীল সময়ে নিজ দেশে শান্তি বজায় রাখা এবং সহযোগিতার বেশে এসে আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে পেরেছন। বাংলাদেশ ও বাঙালির যতগুলো বড় বড় অর্জন তার অধিকাংশই হয় পিতার নেতৃত্বে অথবা কন্যার নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে। বাংলার প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নমাতা শেখ হাসিনা এমনই একজন ব্যতিক্রমী মানুষ। তিনি তাঁর সময়কে, কাল কে, নিজ রাষ্ট্রের সীমানাকে অতিক্রম করে আজ এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছেন। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, উন্নয়ন কর্ম, কল্যান সাধন এবং পরাক্রমশালী বিশ্ব মোড়লদের নিকট মাথা নত না করে সত্য ও ন্যায়ের পথে দৃঢ়চেতা পথ চলা তাঁকে সমকালিন বিশ্বে এক ভিন্ন মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে ।
আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১ তম জন্মদিন।
আমার নেত্রী শেখ হাসিনা! কেউ উনাকে বানিযেছেন কন্যা, কেউবা বোন, আর কারো কারোর কাছে উনি মা! মা হারিয়েছেন, বাবা হারিয়েছেন, ভাই হারিয়েছেন! এ যে কত কষ্টের, কত অনুতাপের, কত বিষন্নের তা শেখ হাসিনার চেয়ে বেশি কেউ উপলদ্ধি করতে পারবে না। তারপর ও বলবো হে নেত্রী, আপনি আর কাদবেন না। আপনার চোখের পানি আমরা সহ্য করতে পারিনা। আমাদের শেষ আশা, ভরসা, ও প্রেরণা হলেন আপনি। বাংলার ঘরে ঘরে আজ শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল! ষোলো কোটি মানুষের বাবা মারা রয়েছেন আপনার চোখের পানি মুছে দিতে, ভাই বোনরা রয়েছেন বুবু বলে জড়িয়ে ধরতে, সন্তানরা আছে আপনাকে মাতার স্থানে বসিয়ে দিতে! আল্লাহর দোহাই নেত্রী, আর কাদবেন না! আমরা চাই বজ্র কঠিন শেখ হাসিনা! যিনি হলেন রাজাকার আলবদর দুর্নীতিবাজদের যম! যার তেজের কাছে ¤œান সাড়াবিশ্ব, নীতির কাছে মলিন আপোষকারী বিশ্বনেত্রী বৃন্দ! নেত্রী শেখ হাসিনা শুধু আমার নেতা নন। মায়ের মতন নিরাপদ আশ্রয় ও ভরসার স্হল। চেতনার বাতিঘর। নেত্রী আপনি দীর্ঘজীবী হন। যে ভালবাসার বন্ধনে আপনি আমাদের সিক্ত করে চলেছেন। তার বিপরীতে বিশ্বমানবের ভালবাসায় শিক্ত হোক আপনার প্রতিটি ক্ষণ, দিন, বছর । সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায়, আজ আপনি জাতির কান্ডারী। আপনার এ কর্মযজ্ঞের অনুসারী হিসাবে, অতি ক্ষুদ্র একজন সংবাদকর্মী হয়ে, সারাজীবন আপনার পাশেঁ রইবো।
বিশ্বের শোষিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত ও অধিকারবি ত মানুষের ত্রাণকর্তা হিসেবে যুগে যুগে আবির্ভূত হয়েছেন বহু মহামানব। অনেককেই শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, জেল-নির্যাতন মোকাবেলা করে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয়েছে। ২৩ বছর পাকিস্তানের জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে, বারবার মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালে অধিকারবি ত বাঙালীর স্বাধীনতা এনেছিলেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৩০ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানবতাবাদী নেতা ছিলেন। সারা বিশ্বে তাঁর পরিচিতি ছিল শোষিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে। তাঁর কন্যা এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায়। এবার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি মানবিক মনোভাবের পরিচয় দেয়ায় বঙ্গবন্ধুর কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে একটি আলোচিত নাম। পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজের অবস্থান আগেই তৈরি করেছেন। এবার মানবিকতায়ও। খুন-ধর্ষণ-বর্বর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয়-সেবা দিয়ে বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ মিডিয়া চ্যানেল ফোর তাঁকে আখ্যায়িত করেছে ‘মানবতার জননী’ হিসেবে। তিনি সর্বহারা রোহিঙ্গাদের পরম মমতায়, মাতৃস্নেহে যেভাবে আঁকড়ে ধরেছেন সেই দৃশ্য বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়েছে।
এই মুহূর্তে মানবিকতার চরমতম এক বিপর্যয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। প্রায় চার দশক ধরে তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসছে। সেই ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু করে সর্বশেষ আসা প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে বাংলাদেশে। গত তিন সপ্তাহে ৪ লাখেরও বেশি নির্যাতিত রোহিঙ্গা এসেছে বাংলাদেশে। দেশের ব্যাপক বন্যার ধকল সামলে উঠার আগেই এই মানবিক বিপর্যয় বাংলাদেশের জন্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। শেখ হাসিনাকে ব্যথিত করেছে এই মানবিক বিপর্যয়। তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ছুটে গেছেন আশ্রয় শিবিরে। স্বচক্ষে দেখেছেন এই অমানবিক অপরাধের চিহ্ন। কথা শুনেছেন নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের। দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, তবে তাদের অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করা হবে না। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, শরণার্থীদের পাশে তিনি আছেন। দেশে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি তাদের পাশে থাকবেন। এ কথা সত্য যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির যে অবস্থা তাতে এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ সময় আশ্রয় দেয়া প্রায় অসম্ভব। সীমিত সাধ্যের মধ্যেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শরণার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন। তাদের থাকা, খাওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ভরণপোষণের জন্য সরকারের বাৎসরিক খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা বরাদ্দের সমান। এই চাপ বাংলাদেশের জন্য সত্যিই চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনা মানবিক হৃদয় দিয়ে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন।
শুধু রোহিঙ্গা প্রসঙ্গই নয়, এ অ লে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার অনন্য ভূমিকা রয়েছে। ১৯ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনীর সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পাহাড়ে পাহাড়ী-বাঙালীর নিরাপদ আবাস গড়ে তোলেন তিনি। এই চুক্তি পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র বিদ্রোহের অবসান ঘটায়। এর আগে দীর্ঘদিন এই অ লের মানুষ নিজ দেশে পরবাসীর মতো জীবনযাপনে বাধ্য ছিল।
শেখ হাসিনা প্রায় ৬৮ বছর পর ছিটমহলবাসীর বন্দী জীবনের অবসান ঘটিয়ে নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেন। ১৯৪৭ সালের পর ২০১৬ সালে এসে স্বাধীন দেশের নাগরিকত্ব পায় ১৬২টি ছিটমহলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভারতের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এই মানবতার মেলবন্ধন রচিত হয়। ১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ কন্যা। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা তাকে আদর করে ডাকতেন ‘হাসু’। পারিবারিক গভীর বন্ধনে আনন্দঘন পরিবেশে যার বেড়ে ওঠা। এই অকুতোভয় মহীয়সী নারী, জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ ৭১ বছরে পদার্পণ করেছেন। অন্যায়, আপোষহীন ব্যতিক্রমী অগ্রণী মেধাবী ব্যক্তিত্ব। যার জীবনে সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন, সংগ্রামে দৃঢ়তায় এগিয়ে যাওয়ার সাহসী ইতিহাস রয়েছে। অনাড়ম্বর সহজ-সরল জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে, সকলকে সুখী করার তার রয়েছে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। যার মূল লক্ষ্য পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা’।
আজ থেকে ৩৫ বছর আগে ১৯৮১ সালের ১৭ মে, সেবাব্রতে উৎসর্গীকৃত জীবন বোধ নিয়ে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন দুঃখী বাঙালির পাশে। কর্মের মধ্য দিয়ে, শেখ হাসিনা থেকে তিনি হয়ে উঠলেন দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা। কর্মচা ল্যে মুখরিত শেখ হাসিনার পথচলা কখনোই নিরাপদ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ‘বাতিঘর’কে জিইয়ে রাখতে, কন্যা শেখ হাসিনাকে বিপদে পড়তে হয়েছে বারংবার। তারপরও থেমে যাননি তিনি। যে নেত্রী মানুষের অধিকার আদায়ের মূলমন্ত্র নিয়ে দেশে ফিরলেন; দুঃখজনক হলেও সত্য, তাকেই সবচাইতে বেশি অধিকার বি ত হতে হয়েছে। মাতা-পিতা সহ পরিবারের সকল সদস্যদের মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের পর, নিজ পিত্রালয়ে ধানমন্ডি ৩২ নং বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সবচাইতে সুবিধাভোগী ব্যক্তিত্ব জিয়াউর রহমান, তিনি সবার আগে বঙ্গবন্ধুর বিচারের পথ রুদ্ধ করেন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ প্রণয়নের মাধ্যমে। পরিবারের অসংখ্য স্বজন হারিয়েও শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়েও বিচার চাইতে পারেন নি। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করায়, একজন সাধারণ নাগরিকের মতো থানায় গিয়ে একটা জিডি করার আইনি অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন নি।
শত বাধা পেরিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো। চেতনার শক্তিতে বাস্তবে অর্জিত স্বাধীনতা ফলপ্রসূ করার জন্য শেখ হাসিনার আদর্শিক রাজনীতি। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অসা¤প্রদায়িক চেতনার মানসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠলেন বাঙালি জাতি। বাঙালির আশা-আকাক্ষার ভরসার প্রতীক শেখ হাসিনা। তার বিপরীতে যারা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে না, মানুষের অধিকারে বিশ্বাস করে না, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায় না, সেই অপশক্তির কোপানলে পড়েন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। আক্রমণের লক্ষবস্তু হয়ে, তার ওপর হামলা করা হয় ১৯ বার। সর্বশেষ, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাকে হত্যা করার পৈশাচিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে রাজনীতির একটি কলঙ্কিত অধ্যায়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি ‘সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর কন্যা এগিয়ে যাচ্ছেন। আর এই এগিয়ে যাবার পথে, সকল চ্যালেঞ্জ গ্রহণে বাংলার আপামর জনসাধারণ তাকে শক্তি যুগিয়ে চলেছে। ৭০ বছর বয়সেও জননেত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিটি মুহূর্ত বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ৫০ লাখ মানুষের কাছে ১০ টাকা দরে চাল তুলে দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্য দিয়ে ৩২ পদের ওষুধ পাঠানো হচ্ছে প্রত্যন্ত অ লের জনগণের দোরগোড়ায়। মাতৃমৃত্যু হার, শিশুমৃত্যু হার কমানোর পাশাপাশি, গৃহহীন মানুষ সরকারিভাবে ঘর পাচ্ছে। সরকারের কর্মকান্ডের বহুমুখী উন্নয়নে, বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ৭৮ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে এসেছে সরকার। স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ সেতু নির্মাণ করে, এক আস্থাশীল, আশাবাদী নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন শেখ হাসিনা।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি হয়ে হয়ে উঠেছেন তারুণ্যের বাতিঘর। ছয় কোটি তরুণ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেদের আরো দক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে। কর্মহীন তরুণ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নিজেরাই কর্মসংস্থান গড়ছে। অসম শিক্ষানীতির পরিবর্তে, সকলের জন্য সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থায় বিনা পয়সায়, গত ৮ বছরে শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাগত রয়েছে। এখন সারাদেশে ১০০% শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়।
জননেত্রীর সেবা থেকে কেউ বাদ পড়ে না। সব্যসাচী অসুস্থ কবি সৈয়দ শামসুল হককে দেখতে যেমন তিনি হাসপাতালে ছুটে যান। ঠিক তেমনিভাবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও পায়রা নদীর কূলঘেঁষা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু’র ডাকযোগে প্রেরিত পত্রের উত্তর দিতে তিনি ভুলেননি। তিনি আশ্বাস দিয়ে শীর্ষেন্দু’কে লিখেন, ‘পায়রা নদীর উপরে সেতু নির্মিত হবে’। এভাবেই ব্যক্তি শেখ হাসিনা, রাজনীতিক শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সর্বোপরি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এগিয়ে চলেছেন। শুধু আওয়ামী লীগের নেত্রী হয়ে নয়, সারা দেশের, সারা বিশ্বের নেত্রী হিসেবে।
শুভ জন্মদিন, প্রিয় নেত্রী।

Comments
Loading...