Bangla Newspaper

উপহার নিয়ে তৌফা-তহুরাকে দেখতে গেলেন ডিসি

0 13

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ||

জমজ কন্যা শিশু তৌফা-তহুরাকে দেখতে সোমবার বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে যান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল। এ সময় তিনি শিশুদের জন্য কেনা উপহার সামগ্রী তুলে দেন শিশু দুইটির মা সাহিদা বেগম ও বাবা রাজু মিয়ার হাতে।
তৌফা ও তহুরাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই ওই বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে কষ্ট পাচ্ছে তৌফা ও তহুরা।
গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে তৌফা-তহুরার নানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা সাহিদা বেগম ও নানা শহীদুল ইসলাম তৌফা ও তহুরাকে কোলে নিয়ে আছেন। ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে কষ্ট পেয়ে তৌফা ও তহুরা কান্নাকাটি করছিল। আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এসেছে শিশু দুটিকে দেখতে।
চিকিৎসা শেষে রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অ্যাম্বুলেন্সযোগে তৌফা ও তহুরা নানার বাড়িতে ফেরে। পরে শিশু দুটিকে দেখতে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার পর ওই বাড়িতে যান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম গোলাম কিবরিয়া, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা গোলাম আজম, সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান, সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদুতের এজিএমকম রকিবুল ইসলামসহ অনেকে।
এ সময় জেলা প্রশাসক ও ইউএনও তৌফা-তহুরার বাবা-মা ও নানার সঙ্গে কথা বলেন এবং তৌফা-তহুরার জন্য কেনা উপহার সামগ্রী তুলে দেন। পরে তারা তৌফা ও তহুরাকে কোলে নিয়ে আদর করেন।
সাহিদা বেগম ও রাজু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন তৌফা ও তহুরা হাসপাতালের এসি কক্ষে ছিল। কিন্তু আমাদের এখানে গ্রামে কোনো বিদ্যুৎ নেই। তাই তৌফা ও তহুরার কষ্ট হচ্ছে। ঠিকমত ঘুমাতে পারছে না। শুধু কান্নাকাটি করছে। একটি চার্জার ফ্যান হলেও খুব উপকার হতো।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, তৌফা ও তহুরা জন্মের সময় শারীরিকভাবে যুক্ত ছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ তাদের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে শিশু দুইটিকে পৃথক করার কাজে সফল হয়েছেন। সরকার এই বিষয়টি সার্বিকভাবে তদারকি ও সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, গাইবান্ধা জেলাবাসী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমরা সকলে প্রাণ ভরে দোয়া করি তারা যেন সুস্থ ও সুন্দরভাবে বড় হয় এবং জীবনে সফল হয়। তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো খেয়াল রাখা ও পরবর্তীতে তাদের লেখাপড়া বা বড় হওয়ার ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজনীয় বিষয় আছে প্রশাসনিকভাবে আমরা সার্বিকভাবে সহায়তা করব।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বাচ্চাগুলো যাতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সুন্দরভাবে বড় হতে পারে- এজন্য যা যা সহায়তা দরকার আমরা করার চেষ্টা করবো। তৌফা ও তহুরার নানার বাড়িতে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর কোমরে জোড়া লাগানো অবস্থায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে নানা বাড়িতে তৌফা ও তহুরার জন্ম হয়। এরপর ৭ অক্টোবর তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মলদ্বার একটি থাকায় পরে ১৬ অক্টোবর প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর চলতি বছরের ১ আগস্ট তাদেরকে আলাদা করার জন্য করা হয় দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার। পরে সুস্থ হলে গত রোববার রাতে ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় ফেরে তৌফা ও তহুরা। সরকারিভাবে তাদের চিকিৎসার সকল ব্যয় বহন করা হয়।

Comments
Loading...