Bangla Newspaper

রোহিঙ্গা নির্যাতন ও বিতাড়ন বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগে সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ

0 30

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন ও বিতাড়ন বন্ধ করে তাদের জন্য রাখাইন রাজ্যে ফেরত নিয়ে নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে আজ সংসদে সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

সংসদ কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ (১) বিধির অধীনে সরকারি দলের সদস্য ডা. দীপু মনি এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ, তাদেরকে তাদের নিজ বাসভূমি থেকে বিতাড়ন করে বাংলাদেশে পুশইন করা থেকে বিরত থাকা এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হোক। ’

প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ জাতিসংঘে এ বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করলে এ ব্যাপারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর যা করছে, তা স্মরণকালের ইতিহাসে একটি নির্মম ঘটনা। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ উস্কে দেয়ারও ষড়যন্ত্র হতে পারে।

তিনি কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করে এ অঞ্চলে শান্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বর্তমানে যা চলছে, তা গণহত্যা ছাড়া কিছুই নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের জন্য যা করছেন, তা বিশ্বে বিরল ঘটনা। তিনি (শেখ হাসিনা) বঙ্গবন্ধু কন্যা বঙ্গবন্ধুর মতোই তাঁর বিশাল হৃদয়।

 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করলেও বিএনপি এ ব্যাপারে সমালোচনা করছে। অথচ তারা একবারের জন্যও সেখানে যাননি।

তিনি কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনে ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার শিকার হয়ে আরো ৪ লাখ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা নাগরিক এদেশে এসেছে। যাদের বেশির ভাগই কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাস্পে বাস করছে। একই কায়দায় ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর সামরিক অভিযানের কারণে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের সমস্যা সমাধানের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ এবং বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।

রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে সরকারি দলের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা নির্যাতনকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সরকারি দলের সদস্য ডা. দীপু মনি নোটিশটি উপস্থাপন করে বলেন, মিয়ানমারের সামরিক ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী সেখানে যেভাবে জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নৃশংসভাবে নির্মূল করছে, অবিলম্বে তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমার ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তজার্তিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করায় সেখানকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ লোক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী। তারা ৫শ’ বছরের অধিক সময় ধরে আরাকান রাজ্যে বসবাস করছেন।

জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের মুসলমান হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে, মানবিক কারণে তাদের এদেশে আশ্রয় দিয়েছি। ’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মীকে সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। কিন্তু যখন সন্তানের সামনে মা-বাবা ও স্বজনদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, তখন সেই সন্তানের মনে প্রতিশোধের স্পীহা জেগে উঠতেই পারে। সুতরাং তাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়া হবে কি হবে না, এটা আমি বলবো না। এটা ইতিহাসই বলে দেবে কারা সন্ত্রাসী। ’ তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের অধীনে মিয়ানমারে একটি সেইফ জোন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

আলোচনায় আরো অংশ নেন সরকারি দলের সদস্য ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, আব্দুল মতিন খসরু, ড. হাছান মাহমুদ, সাইমুন সারোয়ার কমল, মেজর জেনারেল (অব.) একেএম আব্দুল ওহাব, জাসদের শিরীন আক্তার ও তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

Comments
Loading...