Bangla Newspaper

কন্যা সন্তান জন্ম নিলে ফি নেন না ডাক্তার রাখ

57

জিবিনিউজ ডেস্ক //

ভারতে যেখানে লিঙ্গ বৈষম্য প্রকট, এখনো কোন কোন পরিবারে কন্যাসন্তানের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় সে দেশেও মেয়ে জন্ম নেয়ার জন্য নেয়া হয়না কোনো খরচ! অবাক লাগলেও এমন ডাক্তার এখনো আছে সেখানে।

বলছি ভারতের পুনের ডা. গণেশ রাখের কথা। ডা. রাখের দারুণ এই প্রয়াস হলো তার হাসপাতালে কোন প্রসূতি মা কন্যা সন্তানের জন্ম দিলে তার চিকিৎসার জন্য কোনো ফি নেন না তিনি। ছয় বছর পূর্বে তিনি একটি ক্যাম্পেইন চালু করেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তী সময়ে আরও অনেকেই একই কাজ করেছেন।
২০০৭ সাল। ডা. রাখ পুনের হাদাপ্সার এলাকায় তার হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই তিনি সকল মায়েদের মাঝে অদ্ভুত আচরণ খেয়াল করেন। যা তাকে বিস্মিত করে তোলে। তিনি লক্ষ্য করে দেখলেন, গর্ভাবস্থার সময়ে এমনকি সন্তান জন্মদানের মুহূর্তেও অধিকাংশ মায়েরা গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। পুত্র সন্তান হবে কিনা- এই ব্যাপার নিয়ে তাদের মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা থাকত অসীম।
সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে ডা. রাখ বলেন, সন্তান জন্মদানের কষ্ট অনেক মায়েরাই মুহূর্তের মাঝেই ভুলে যেতেন পুত্র সন্তান হবার আনন্দে। অন্যদিকে কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার ফলে তাদের কষ্ট যেন দ্বিগুণ বেড়ে যেত।
পুত্র সন্তান জন্ম নেওয়া যেখানে একটি পরিবারের খুশির সংবাদ হিসেবে বিবেচিত হতো, কন্যা সন্তানের জন্ম সেখানে অভিশাপ হিসেবে দেখা হতো। প্রায়শই দেখা যেত, কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা শুনে অনেক আত্মীয়রা শিশুর মুখ না দেখেই চলে গিয়েছে। এমনকি, হাসপাতালের বিল দেবার ক্ষেত্রেও নানান রকম সমস্যা তৈরি করত কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার কারণে। এই সকল ঘটনা ও আচরণের কারণে ডা. রাখ মানসিকভাবে খুব কষ্ট পান। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেন এমন কিছু তিনি করবেন, যার ফলে খুব অল্প হলেও মানুষের চিন্তাধারা পরিবর্তন করা যায়। এইভাবেই ডা. রাখ-এর এমন চমৎকার ক্যাম্পেইনের সূচনা।
২০১২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে- কন্যা সন্তান জন্ম নিলে হাসপাতালের ডেলিভারি ফির জন্যে কোন বিল করা হবে না। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ’শর বেশী কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে একেবারেই বিনামূল্যে।
হাসপাতালের সকল রোগীর মাঝে মিষ্টি বিতরণের মাঝে দিয়ে প্রতিটি কন্যা সন্তানের জন্ম আনন্দ নিয়ে পালন করেন হাসপাতালে কর্তব্যরত ৩৫ জন কর্মী। কন্সট্রাকশন সাইটের দিনমজুর রাহুল খালসে বলেন, আমাদের বাসার কাছেও অনেক হাসপাতাল আছে। কিন্তু আমরা দূর থেকে এই হাসপাতালে এসেছি। কারণ ডা. রাখ কোন টাকা গ্রহণ করেন না।
বিখ্যাত বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন ডা. রাখ-এর ব্যাপারে বলতে গিয়ে তাকে ‘রিয়েল হিরো’ বলে অভিহিত করেন।
ডা. রাখ বলেন,  আমি খুবই ছোট একটি কাজ শুরু করেছিলাম। কখনোই আশা করিনি তার প্রভাব এতো বিশাল হবে। আসলে খুব ছোট কিছুও মনের উপরে অনেক বড় প্রভাব তৈরি করে দিতে পারে।
অবশ্য একটু মজা করে তিনি বলেন, ‘যেদিন কন্যা সন্তানের জন্ম নিয়ে সকলেই আনন্দিত হবেন সেদিন থেকে আবারও বিল গ্রহণ করা হবে। বিল ছাড়া কীভাবে আমার হাসপাতাল চালাবো আমি
Comments
Loading...