স্ট্রবেরি চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে খুলনার পাইকগাছাতে। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের পর স্ট্রবেরি চাষেও সফল কৃষক মো. আব্দুস সবুর মোড়ল। অনেকেই এ অঞ্চলে তাকে মিনি বিজ্ঞানী হিসেবে জানে। লবণ অধ্যুষিত অঞ্চলে তিনি স্ট্রবেরিও চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। সূত্র মতে, পাইকগাছায় প্রায় তিন দশক আগে শুরু হয় লবণ পানিতে চিংড়ি চাষ। ধীরে ধীরে তা সমপ্রসারণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গোটা উপজেলায়। কৃষি অধ্যুষিত এ অঞ্চল পরিণত হয় লবণ পানির চিংড়ি চাষ এলাকায়। হ্রাস পেতে থাকে কৃষি ফসলের উৎপাদন। চিংড়ি চাষের কারণে একদিকে কৃষি জমি হ্রাস পায়, অন্যদিকে বসতবাড়ি ও ফসলি জমিতে নার্সারি ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলবৃক্ষ রোপণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম সঙ্কট দেখা দেয় সবজি আবাদ। এসব নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পাইকগাছার পুরাইকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুস সবুর মোড়ল দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সহায়ক বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের উন্নত কলাকৌশলে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত কয়েক বছর তিনি বিদেশি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল স্ট্রবেরি চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। ২০১০-১১ সালে উপজেলায় মাত্র ২-৩টি স্ট্রবেরি চারা রোপণের মধ্য দিয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেন। সে বছরই সবুর মোড়ল সাড়ে ১৪ হাজার টাকার চারা বিক্রি করেন। ২০১১-১২ মৌসুমে ২.৪৮ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে ১ লাখ ২ হাজার টাকার চারা ও ফল বিক্রি করেন। এর মধ্যে ৭২ হাজার টাকার ফল এবং ৩০ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করেন। চলতি মৌসুমে (২০১২-১৩) ৮.২৫ শতক জমিতে স্ট্রবেরির চাষ করেছেন। এবং সেখান থেকে ২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে বলে আশা করছেন। লেখক : চিত্রা বিশ্বাস নদী, পাইকগাছা, খুলনা




