রাজধানীবাসীর বহু প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দেবে জাপান আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা (জাইকা)। ৩৩তম ওডিএ ঋণ প্যাকেজের আওতায় এ প্রকল্পের প্রথম কিস্তি বাবদ ৯২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতের দুই প্রকল্পেও ৫ হাজার ৩১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঋণ দেবে জাইকা। এজন্য পৃথক দুটি চুক্তি হয়। বুধবার বিকালে ঢাকার রূপসী বাংলা হোটেলের মার্বেল রুমে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ঋণচুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব আবুল কালাম আজাদ। আর জাইকার পক্ষে সই করেন সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি তাকাও তোদা। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, জাইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট তোশিয়ুকি কোরিওনাগি, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাকি পাঁচ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দেবে সরকার। প্রাথমিকভাবে পরামর্শক নিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা বাবদ ৯২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেয়া হচ্ছে। মেট্রোরেলের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও দরপত্র প্রক্রিয়াকরণের পর দ্বিতীয় কিস্তি ছাড় করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ আরো হাজার কোটি টাকার চুক্তি সই হবে। এরপর নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করা হলে বাংলাদেশ সরকারের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ছাড় হবে। ডিটিসিএর তথ্যমতে, মেট্রোরেল উত্তরা থেকে পল্লবী, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, প্রেসক্লাব ও মতিঝিল পর্যন্ত যাবে। পথে স্টেশন থাকবে মোট ১৬টি। মেট্রোরেলে ঘণ্টায় গড়ে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। তিনটি পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২০১৯ সালের মধ্যে পল্লবী থেকে সোনারগাঁও ১১ কিলোমিটার চালু করা হবে। এর পরের বছরে হোটেল সোনারগাঁও হতে মতিঝিল এবং ২০২১ সাল নাগাদ উত্তরা হতে পল্লবী অংশে ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মেট্রোরেল প্রকল্পটি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ২০১৯ সালের মধ্যে পল্লবী থেকে হোটেল সোনারগাঁও পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার চালু করা হবে। এর পরের বছর কাজ শেষ হবে সোনারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার। আর উত্তরা থেকে পল্লবী পর্যন্ত ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশ চালু হবে ২০২১ সাল নাগাদ। মেট্রোরেলের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী, নির্মাণ শেষে মেট্রোরেল প্রকল্পের আনুষঙ্গিক কাজ চলবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। এ জন্য প্রকল্প ব্যয় ১২ অর্থবছরে বিভাজন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে খরচ ধরা হয়েছে ৩৫১ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৫ কোটি টাকা, এর পরের বছরে ৯৫৩ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৪৮ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯০ কোটি টাকা। এর পরের অর্থবছরে ৩ হাজার ২১১ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯২২ কোটি টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ২১৩ কোটি টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২ কোটি টাকা। আর নির্মাণের শেষ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য ব্যয় হবে ১৪ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ খাতের দুই চুক্তি : বিদ্যুৎ খাতের দুই প্রকল্পের মধ্যে_ ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে এক হাজার ৬৫৩ কোটি ৬০ লাখ আর ভেড়ামারা কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৩ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা জাইকার ঋণ দেবে। গতকাল এ দুটি চুক্তিও সই হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন এবং সাব-স্টেশনের উন্নয়ন ও ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কের উন্নয়নের লক্ষ্যে ন্যাশনাল পাওয়ার নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পটি নেয়া হয়। এটি একনেকে অনুমোদন পায় ৫ ফেব্রুয়ারি। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারি খাত থেকে ব্যয় করা হবে ৭৭৩ কোটি ২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০১৩-১৭ সাল। আর ভেড়ামারায় ৩৬০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। ২০১০ সালের ৮ জুন একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকার বহন করবে ৪৭৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। উল্লেখ্য তিন প্রকল্প ছাড়াও আর্সেনিক দূষণপ্রবণ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানি সংগ্রহের উৎস সন্ধানে ৭২ কোটি টাকা অনুদান দেবে জাইকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১০৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা।যাযাদি।




