জিবিনিউজ ডেস্ক:মালির উত্তরাঞ্চলে ফরাসি নেতৃত্বাধীন আফ্রিকান বাহিনীর সঙ্গে শুক্রবার জঙ্গিদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে প্রায় ৬৫ জন জঙ্গি ও ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছে। এদিকে জঙ্গিদের সঙ্গে ফরাসি নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য মালির পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র নাইজারে ১০০ সেনা সদস্য এবং পাইলটবিহীন বিমান বা ড্রোন মোতায়েন করেছে আমেরিকা। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স শুক্রবারের ওই সংঘর্ষের পর মধ্য আফ্রিকান রাষ্ট্র চাদের রাষ্ট্রীয় বেতারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এখন পর্যন্ত শত্রুপক্ষের পাঁচটি পরিবহন ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৬৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে আমরা ১৩ সেনাকে হারিয়েছি।’ এদিকে একই দিন মালির উত্তরাঞ্চলের তুয়ারেগ উপজাতি অধ্যুষিত টেসালিত শহরে দুটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মালির উত্তরাঞ্চলের দখল নিয়ে ১১ জানুয়ারি ফরাসি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সঙ্গে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের সংঘর্ষ শুরু হয়। ৩০ জানুয়ারির মধ্যেই ফরাসি নেতৃত্বাধীন বাহিনীটি মালির উত্তরাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর গাও, টিমবাকতু এবং কিদাল থেকে জঙ্গিদের তাড়িয়ে শহরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পিছু হটতে বাধ্য হওয়া এই ইসলামিক জঙ্গিরা মালির উত্তরাঞ্চলের কিদাল শহরের কাছেই আলজেরিয়া সীমান্তবর্তী মরুভূমি বেষ্টিত ইফোগাস পার্বত্য এলাকায় আত্মগোপন করে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এই ইফোগাস পার্বত্য এলাকাতেই ফরাসি বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে শুক্রবার। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে জঙ্গিদের কাছ থেকে সদ্য উদ্ধারকৃত কিদাল শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদ তার সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে ১৮’শ সদস্যের একটি দল কিদালে নিয়ন্ত্রণ করলে ইসলামপন্থী জঙ্গি দমনের এই যুদ্ধের সম্মুখভাগে এসে পড়ে চাদ। তাই শুক্রবার এই সংঘর্ষে ফরাসি নেতৃত্বাধীন অন্যান্য আফ্রিকান বাহিনীগুলোর মধ্যে চাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। মালিতে চলমান এই অভিযানে প্রায় ২ হাজার সেনা পাঠানোর কথা দিয়েছে চাদ। এছাড়া মার্চে চাদ ও মালির সেনাবাহিনীর হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তর করে ফরাসি সেনাবাহিনীর ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মালির দুর্বল সেনাবাহিনী জঙ্গিদের গেরিলা হামলা সামাল দিতে পারবে কিনা সে বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। এদিকে মালির স্বাধীনতাকামী নৃতাত্তি্বক গোষ্ঠী তুয়ারেগ অধ্যুষিত টেসালিত শহরে দুটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তুয়ারেগের স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীদল এমএনএলএ জানিয়েছে, ‘শুক্রবারের এই হামলায় দু’জন আত্মঘাতী হামলাকারী ছাড়া তিনজন নিহত হয়। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে চারজনকে।’ এমএনএলএ’র পক্ষ থেকে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী এমইউজেএও-কে দোষারোপ করা হয়। মুজাও বা এমইউজেএও এখন পর্যন্ত শুক্রবারের এই গাড়িবোমা হামলার দায় স্বীকার না করলেও বৃহস্পতিবার কিদাল শহরে আরেকটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলার দায় স্বীকার করে তারা। নাইজারে আমেরিকার ড্রোন মোতায়েন জঙ্গিদের সঙ্গে ফরাসি নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য মালির পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র নাইজারে ১০০ সেনাসদস্যের একটি দল এবং ড্রোন বিমান মোতায়েন করেছে আমেরিকা। যুদ্ধরত ফরাসি নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে গোয়েন্দা সহায়তা দেয়াই হবে আমেরিকার এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। শুক্রবার কংগ্রেসের কাছে লেখা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। আমেরিকার এই পদক্ষেপে নাইজার সরকারের সম্মতি রয়েছে বলে ওবামা তার ছয় বাক্যের এক ক্ষুদে চিঠিতে জানান। মোতায়েনকৃত ড্রোনগুলো জঙ্গিদের গতিবিধি এবং লিবিয়াসহ অন্যান্য দেশগুলো থেকে তাদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যাপারটি পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানা গেছে। তবে আমেরিকার এক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরাসরি মালি সঙ্কটের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকলেও এটি আফ্রিকাকেও তাদের কাজে গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করবে। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে নাইজারের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা জানান, তাদের দেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত বিশা উইলিয়ামস দেশটিতে একটি ড্রোন ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি চাচ্ছেন।যাযাদি।




