ঢেউটিন উৎপাদনে দেশের বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছে অ্যাপোলো ইস্পাত লিমিটেড। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানিতেও সাফল্য দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৯৫ সালে অ্যাপোলো যাত্রা শুরু করলেও ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম তারা উৎপাদনে আসে।
প্রথমদিকে উৎপাদনে ব্যবহৃত পণ্য কোরিয়া, জাপান থেকে আমদানী করা হতো। ২০০৪ সাল থেকে কোম্পানি নিজেরাই বেশিরভাগ পণ্য উৎপাদন করছে। মোট দেশীয় চাহিদার ২৫ শতাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে প্রায় ১৫ শতাংশ উৎপাদন করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কয়েল সীট আমদানী করে প্রক্রিয়াজাত করার পর তাদের উৎপাদিত পণ্য থাইল্যান্ডেও রপ্তানি করা হয়।
কম্পিউটারাইজ পদ্ধতিতে আধুনিক মেশিনারীজ সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। পরিবেশ বান্ধব এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রতিষ্ঠানিতে কোনো শব্দ দূষণ নেই। আধুনিক মানসম্মত এই কোম্পানি বিশ্বের সেরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও একটি।
৭০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত প্রতিষ্ঠানে তিনটি অত্যাধুনিক কম্পিটারাইজড প্লান্টে পুরোদমে উৎপাদন চলছে। প্রতিষ্ঠানটির ২শ ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। ভেল্যুয়েশন প্রতিষ্ঠানের হিসেব অনুযায়ী এর জমির দাম ১শ ৫০ কোটি টাকা।
কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত অর্থ বছরে প্রতিষ্ঠানটির ৫শ কোটি টাকা ব্যবসার বিপরীতে ৯৫ কোটি টাকা অপারেটিং প্রফিট হয়। এছাড়া সরকারি কোষাগারে কোম্পানিটি ১৯ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, অ্যাপোলো ইস্পাতের বার্ষিক ৮৫ হাজার টন পণ্য উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। যা দেশীয় চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে বর্তমানে কোম্পানিটি ৫০ হাজার টন উৎপাদন করছে। যা মোট উৎপাদন ক্ষমতার ৬০ শতাংশ। উৎপাদন শতভাগ না হওয়ার জন্য বিদুৎ, গ্যাস সঙ্কট ও শিল্প বান্ধব পরিবেশ না থাকাকেই দায়ী করছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। ব্যবসার প্রসারে ৪৪ শতাংশ জমির ওপর কোম্পানির আরো একটি প্লান্ট নির্মাণ কাজ চলছে। এই প্লান্ট নির্মাণ সম্পন্ন হলে দেশে টিন উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে অ্যাপোলো ইস্পাত এমনটাই বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।পরিবর্তন।




