এম এ নুর চৌধুরী,জিবিনিউজ নিউইয়র্ক থেকে:
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালতে ডিপোর্টেশন সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বেশ কমে আসলেও ডিপোর্টেশনের ঘটনা কমছে না। ইউএস ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস্এি) কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের ডিপোর্টেশনের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১২ সালে প্রবর্তিত সিকিউর কমিউনিটি প্রোগ্রামের আওতায় আইসিএ এজেন্টদের একজন আনডুকমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টকে ডিপোর্টেশনের করার ক্ষেত্রে যে গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে তা অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলিত হচ্ছে। ঐ কর্মসূচীর আওতায় কোনো সাধারণ আইন ভঙ্গকারীকে সিটি, কাউন্টি বা স্থানীয় কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেফতার করলে তার ফিঙ্গার প্রিন্ট ও রেকর্ড আইসিএ এজেন্টদের সাথে শেয়ার করার জন্য বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো স্থানের পুলিশ যদি কাউকে গ্রেফতার করে তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির ফিঙ্গার প্রিন্ট ও রেকর্ড আ্ইসিএ এজেন্টরা সাথে সাথে পেয়ে যাচ্ছেন। আর এই ফিঙ্গার প্রিন্ট ও রেকর্ড পরীক্ষা করে আনডকুমেন্টেড হিসাবে কেউ চিহ্নিত হলেই আ্ইসিএ এজেন্টরা তাকে তাদের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করতে পারে। ফলে ছোট খাটো কোনো অপরাধে, এমনকি ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণেও স্থানীয় পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর তিনি আনডুকমেন্টেড হলে তাকে আইসিএ এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করাটা রীতিতে দাঁড়িয়ে গেছে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডিপোর্টেশনের সংখ্যা কমানোর ক্ষেত্রে আনডকুমেন্টেড তরুণদের জন্য ডেফারড অ্যাকশন প্রোগ্রামসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও ডিপোর্টেশনের সংখ্যার ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ছে না। এই প্রেক্ষিতে আইসিএ প্রধান জন মর্টন সম্প্রতি আইসিএ এজেন্টদের জন্য নুতন একটি নির্দেশনা ইস্যু করেছেন। এই মেমোতে সিকিউর কমিউনিটি প্রোগ্রামের অধীনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোন কোন গ্রাউন্ডে কাউকে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়া যাবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনাবলী দেওয়া হয়েছে। তবে এ সত্ত্বেও ২০১২ সালে ডিপোর্টেশনের সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে নতুন একটি সমন্বিত ইমিগ্রেশন আইন প্রণয়ন কার্যক্রম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরপরই আলোচনার তুঙ্গে চলে আসে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও আপাতত: কিছুটা ভাটার টান পড়েছে। নির্বাচনের পর একদিকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিজয়ে তার নির্বাচনী অঙ্গীকার একটি সমন্বিত ইমিগ্রেশন আইন প্রণয়ন, অন্যদিকে রিপাবলিকানরা তাদের পরাজয়ে নিজেদের ইমিগ্রেশন নীতিকে চিহ্নিত করার পর নতুন একটি ইমিগ্রেশন আইন প্রণয়নে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়। কংগ্রেস ও সিনেটের আইন প্রণেতাদের অনেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করেন। এক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মতৈক্য পরিলক্ষিত হয়।
কিন্তু ফিসক্যাল ক্লিফ এবং কানেকটিকাটের নিউটাউনের স্যান্ডি ব্রুক ইলিমেন্টারী স্কুলে হত্যাকান্ডের পর সবার দৃষ্টি গান-কন্ট্রোলের দিকে চলে আসায় ইমিগ্রেশন ইস্যু অনেকটা পেছনে চলে যায়। ফিসক্যাল ক্লিফ নিয়ে একটা সমঝোতা অবশ্য ইতিমধ্যেই হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আইন প্রণেতারা এবার মূলত গান-কন্ট্রোল বিষয়ে তাদের মনোযোগ দেবেন। তবে এই গান-কন্ট্রোল নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যে জোরালো বিতর্ক শুরু হয়েছে তার সমাধানে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন। এই অবস্থায় ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে কংগ্রেস ও সিনেটের দৃষ্টি পড়তে বছরও পার হয়ে যেতে পারে বলে এখন তারা মনে করেন।




