আফগানিস্তানে যৌথ বাহিনীর অভিযান শেষ হওয়ার পর ১২ হাজার পর্যন্ত সেনা রাখার চিন্তাভাবনা করছে ন্যাটো। এ সেনারা আফগান বাহিনীর প্রশিক্ষণে নিয়োজিত থাকবে। জঙ্গি নির্মূলে আফগান সেনাদের পরামর্শকের ভূমিকা পালন করবে তারা। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ খান মোহাম্মদি গত শুক্রবার এ কথা জানান। ২০১৪ সালে যৌথ বাহিনীর সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার কথা।
শুক্রবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটোভুক্ত ২৮ দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক শেষে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ‘২০১৪ সালের পর আফগানিস্তানে ন্যাটোর আট থেকে ১২ হাজার সেনা রাখার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো ভূমিকা রাখতে পারে।’ তবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তাঁরা। মোহাম্মদিও জানান, পুরো বিষয়টি এখনো আলাপ-আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত রণাঙ্গন থেকে বহুজাতিক বাহিনীর সেনা প্রত্যাহারের পর অতিরিক্ত সেনা রাখার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। মিত্রদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে তাদের। তালেবান ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে পারে_এমন ঝুঁকির কথা চিন্তা করে ২০১৪ সালের পর আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা রাখার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়। তাদের কাছে আশ্রয় পায় আল-কায়েদা। তাই যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের নিরাপত্তার ভার পুরোপুরি আফগান বাহিনীর হাতে ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না।
তবে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন ‘সঠিক নয়’ বলে দাবি করেন পেন্টাগনের মুখপাত্র জর্জ লিটল। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটাও বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, ২০১৪ সালের পর আফগানিস্তানজুড়ে আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজে বিদেশি সেনা মোতায়েন থাকবে। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে সেনাসংখ্যা বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন চায়, তাদের সেনা সংখ্যা ১০ হাজারের কম হবে।
লিটল জানান, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এখনো আফগানিস্তানের ব্যাপারে সব দিক যাচাই-বাছাই করে দেখছেন। কী পরিমাণ মার্কিন সেনা সেখানে নিয়োজিত থাকবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি তিনি।
সূত্র : এএফপি, জিনিউজ।




